বছরে ১১৭ ট্রান্সফরমার চুরি, চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনায় কৃষকদের চাঞ্চল্যকর বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চুরি করা ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও চোরাই কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
সূত্র জানায়, চলতি বছরে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে সদর উপজেলা ও সুজানগর, বেড়া ও সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহৃত ১১৭টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নেয় চোর চক্র। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই রাতে পাবনা সদর উপজেলার পদ্মার চরকোমরপুর মাঠ থেকে একটি ১০ কেভি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
এই সিরিজ চুরির ঘটনায় এসব এলাকার কৃষক বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মী ও কৃষক শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাতেও আলোচনা হয়।
এরই সূত্র ধরে মাঠে নামে পুলিশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের কয়েল, কপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে।
সোমবার বিকালে পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চোর চক্রের ৬ সদস্যের গ্রেফতার এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতার চোর চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহৃত ট্রান্সফরমার চুরি করে মূল্যবান তামা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিল।
গ্রেফতার চোরচক্রের সদস্য হলেন- পাবনা সদর উপজেলার চরঘোষপুরের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৩৮), সিঙ্গা বাজার এলাকার শামজাদ ফকিরের ছেলে আরমান ফকির (৩৬), আতাইকুলা থানার গঙ্গারামপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩০), সদর উপজেলার পয়দা রহিমপুর গ্রামের তুরাব ফকিরের ছেলে দুলাল ফকির (৩৫), আটঘরিয়া উপজেলার রামেশ্বরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০), সদর উপজেলার চরঘোষফুর গ্রামের আবেদ প্রামাণিকের ছেলে মো. জীবন (২৮)।
