পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ঝুঁকিতে প্রায় ১ হাজার পরিবার
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের মুখে ইতোমধ্যে ১২টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কাথুরিয়া, মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দিসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়।
ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া গ্রামের লাবলু মল্লিক, জাহানারা আক্তার, মধু বিবি, মানিক মাদবর ও আয়মন বেগমসহ ১২টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দি এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
ভাঙনের আতঙ্কে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০০টি পরিবারের সদস্যরা তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক একর ফসলি জমি, অসংখ্য গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, সোমবার রাতে ৮ থেকে ১০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় ১ হাজার মানুষ এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী ও রইছ উদ্দিন জানান, কয়েক বছরের নদীভাঙনে তাদের ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে শেষ সম্বল পৈতৃক ভিটাও হারানোর উপক্রম হয়েছে। সরকারি কোনো সহায়তা এখনো তারা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক, লাবলু মল্লিক ও সুফিয়া বেগম জানান, সোমবার রাতে মাইকিং শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখেন নদীভাঙন শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি তারা।
আরিফুল ইসলাম মানিক বলেন, সোমবার রাত থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। কাথুরিয়া গ্রাম থেকে খালেক ফকিরের কান্দি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, পূর্ব নাওডোবা ও পালেরচর ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় আটটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
