Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

হত্যা মামলার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম, সেই সুযোগে পাট কাটায় বাধা ও প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

Advertisement

Icon

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

হত্যা মামলার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম, সেই সুযোগে পাট কাটায় বাধা ও প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

ছবি: যুগান্তর

Advertisement

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামে একটি হত্যা মামলার পর গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় নিজেদের জমির পাট কাটতে গেলে বাধা, ইতালিপ্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া বেগম।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সংঘটিত একটি হত্যা মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে গ্রামের অনেক পুরুষ সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন। তানিয়া বেগমের স্বামী ইতালিপ্রবাসী হওয়ায় তিনি সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় নিজেদের জমির পাট কাটতে বাইরের শ্রমিক নিয়োগ দেন। তবে অভিযুক্তরা শ্রমিকদের পাট কাটতে বাঁধা দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা পাট কাটতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা চালান। পরে সকাল ১০টার দিকে তারা তানিয়া বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন।

তানিয়া বেগমের দাবি, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক খুলে নেওয়া হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্রও সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। তবে যাওয়ার সময় রাতে এসে হত্যা করার হুমকি দেয়। এরপর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযুক্তদের ভয়ে নিজেদের জমির পাটও কাটতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

লিখিত অভিযোগে ওয়ারেছ ফকির, ইয়ার আলী ফকির, ইব্রাহিম সরদার, রুপনা বেগম ও মিজানুর ফকিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই চক্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, তারা সরকারি স্কুলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করছে এবং বাজারের বিভিন্ন দোকানে ডাবল তালা লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরীহ জনগণকে মামলার আসামি করার ভয় দেখায় চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম