Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

প্রকৃত আসামি লন্ডনে, সিলেটে ‘প্রক্সি সারেন্ডার’ করায় আইনজীবী কারাগারে

Icon

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

প্রকৃত আসামি লন্ডনে, সিলেটে ‘প্রক্সি সারেন্ডার’ করায় আইনজীবী কারাগারে

জাল-জালিয়াতি মামলার প্রবাসী আসামিকে যুক্তরাজ্যে রেখে আদালতে ‘প্রক্সি আসামি’ দাঁড় করিয়ে জামিন নেওয়ার ঘটনায় সিলেটে কারাবাস করছেন এক আইনজীবী। তার নাম মো. হুমায়ুন কবির।

সিলেটের বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ার পর আদালতের করা মামলায় গত মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে ওসমানীনগরের দশহাল গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে একটি জাল-জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন ছিল। আসামি রফিক মিয়া নিজে দেশে না এসে লন্ডনে অবস্থান করেই বিয়ানীবাজারের দিঘলবাক গ্রামের আমিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে প্রক্সি হিসেবে আদালতে দাঁড় করান।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের সহযোগিতায় আমিন উদ্দিন নিজেকে ‘রফিক মিয়া’ পরিচয় দিয়ে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে জেলে পাঠালে কিছুদিন হাজতবাসের পর ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। এরপর কৌঁসুলি হুমায়ুন কবির ও তার আইনজীবী সহকারী মো. জাকারিয়া জিম্মাদার সেজে বেইলবন্ড দাখিল করে তাকে মুক্ত করেন।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলার ধার্য তারিখে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী আদালতে আসামি যাচাইয়ের লিখিত আবেদন করেন। এরপর ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট (ঢাকা) আদালতকে জানায় ওই সময় রফিক মিয়ার দেশে আসা-যাওয়ার কোনো তথ্য নেই। এর মাধ্যমে আদালতে জালিয়াত চক্রের ভয়ংকর তথ্য উন্মোচিত হয়।

প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়ার পর বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাদী হয়ে গত ২০ জুলাই চারজনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪১৯, ১০৯ ও ৪৬৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন- যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. রফিক মিয়া, প্রক্সি দেওয়া আমিন উদ্দিন, আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির ও জিম্মাদার আইনজীবী সহকারী মো. জাকারিয়া।

আদালতে প্রতারণার কারিগর অভিযুক্ত আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। তিনি যশোর জেলার সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও রওশন আরা বেগম দম্পতির সন্তান।

নথি অনুযায়ী, তিনি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে ওকালতির সনদ লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পেশাগত কাজ শুরু করেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আলী হায়দার ফারুক বলেন, লন্ডনপ্রবাসী আসামির বদলে অন্য লোক প্রক্সি দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে। বিষয়টি বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের নজরে আসার পর আদালত বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় আইনজীবী হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটনকারী বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আসামি রফিক মিয়া লন্ডনে ছিলেন; কিন্তু তার নামে যিনি আত্মসমর্পণ করেন তাকে দেখে আমার সন্দেহ হয়। এরপর আদালতে পাসপোর্টের গমন-আগমনের তথ্য তলবের আবেদন করি। তদন্তেই জালিয়াতির ঘটনাটি প্রমাণিত হয় এবং আদালত মামলা করেন।

এদিকে আইনজীবীর এমন জালিয়াতির ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি হলে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন আইনজীবীরা। কেউ কেউ বলছেন, লন্ডনী টাকার খেলায় মেতে জেলে যেতে হয়েছে আইনজীবীকে। তার এমন কর্মকাণ্ডে আইনজীবীদের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সিলেট জেলা বারের সভাপতি গোলাম এহিয়া চৌধুরী সোহেল যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। তাই এটি নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে অন্য সাধারণ মামলার মতোই আইন অনুযায়ী এর বিচারপ্রক্রিয়া চলবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .