Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

১০ লাখ টাকায় করলেন কিডনি বিক্রির চুক্তি, পেলেন ৫০ হাজার

Icon

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

১০ লাখ টাকায় করলেন কিডনি বিক্রির চুক্তি, পেলেন ৫০ হাজার

ফাইল ছবি

চরম দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে ১০ লাখ টাকায় কিডনি বিক্রির চুক্তি করে এক দিনমজুরকে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে এক মানব অঙ্গ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নেপালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি কেটে নেওয়া হলেও ভুক্তভোগীকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার মন্টু মিয়া নামে এক দিনমজুর জয়পুরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাটের ৫নং আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালাই থানাকে নির্দেশ দিলে থানা কর্তৃপক্ষ তা নথিভুক্ত করেন।

মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন— বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খাঁন পাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়ার সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কিডনি চক্রের দালাল হিসেবে পরিচিত আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- সংসার চালাতে গিয়ে দিনমজুর মন্টু মিয়া এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েন। দিশেহারা অবস্থায় অভিযুক্তরা তাকে কিডনি বিক্রির পরামর্শ দেন। 

তারা জানান, ঢাকার এক ধনবান নারীর জন্য কিডনি প্রয়োজন, যিনি বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেবেন। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে মন্টু মিয়া এই প্রস্তাবে রাজি হন।

পরবর্তীতে আসামিরা ঢাকায় নিয়ে মন্টুর পাসপোর্ট তৈরি করান এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে তাকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। এরপর ভারত হয়ে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসার নামে কিছুদিন সেখানে রাখার পর বাকি টাকা না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

দেশে ফিরে চুক্তি অনুযায়ী বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবি করলে আসামিরা তা অস্বীকার করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে দেন-দরবার করেও কোনো সমাধান না পেয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন এ অসহায় দিনমজুর।

এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উজ্জল হোসেন বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সুযোগ নিয়ে যারা অবৈধভাবে মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনার মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল সমাজকে এ ধরনের চক্রের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .