Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

১৭ বছরের সংগ্রাম ও জুলাই একই সূত্রে গাঁথা: আবদুল হাই শিকদার

Icon

ময়মনসিংহ ব্যুরো

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

১৭ বছরের সংগ্রাম ও জুলাই একই সূত্রে গাঁথা: আবদুল হাই শিকদার

ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার। ছবি: যুগান্তর

যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, জুলাই হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী অগ্নিগিরি। ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রাম ও জুলাই একইসূত্রে গাঁথা। ভারতীয় উপমহাদেশে সবগুলো দেশের স্বাধীনতা এসেছে আলোচনার টেবিলে। একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যার স্বাধীনতা এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। 

তিনি বলেন, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষহীন একটা মর্যাদাশীল, আত্মনির্ভরশীল ও বলিয়ান দেশ হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে। এটাই হবে জুলাইয়ের দীপ্ত অঙ্গিকার। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত কনসার্টে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ময়মনসিংহ ফোরাম।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, ময়মনসিংহ একটি অনুপম জায়গা। ওস্তাদ জালাল খা, কবি রওশন ইজদানি, কবি আব্দুল হাই মাশরেকি ও কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এই ময়মনসিংহের সন্তান। 

ময়মনসিংহের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র মানেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, যিনি ময়মনসিংহ এবং চিত্রকর্মকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, যে বিস্ফোরণে সব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল, সেটিই হচ্ছে জুলাই বিপ্লব। যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটে ও ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হয়। জুলাইয়ে ছেলে-মেয়েরা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখির মতো রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, এক দফা দাবি আদায়ে। জুলাইয়ের সঙ্গে মিশে আছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের ইতিহাস। তিতুমীর, পলাশীর বিপ্লব, ফরায়েজি আন্দোলন, ফকির মজনু শাহ্-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবকিছুর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে জুলাই বিপ্লব।

তিনি বলেন- ৪৭ এর দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে একাত্তরের গৌরবগাঁথা সবকিছুর সঙ্গেই মিশে আছে এই জুলাই বিপ্লব। যার মাধ্যমে বাংলার তরুণ-তরুণীরা এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।  

তৎকালীন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধর আত্মত্যাগ এবং মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আবদুল হাই শিকদার বলেন- যে জাতি মরতে শিখেছে, প্রাণ দিতে শিখেছে, তাদের প্রত্যেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সমতুল্য। জুলাই ব্যর্থ হতে পারে না, জুলাইকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিন দিক দিকে ঘেরাও হয়ে থাকা দেশকে সেই দেশ থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যেখানে সব পাপী ও কুচক্রীরা আশ্রয় নিয়ে আমাদের ঐক্য নস্যাৎ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি এহসান হাবীব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি মুহাম্মদ মুস্তাসীম বিল্লাহ ও কবি আহমদাল হোসাইন।

বিকালের মেঘাচ্ছন্ন আকাশের প্রাণচঞ্চল বৈশাখী মঞ্চে ‘জুলাই কনসার্ট’-এ জুলাইয়ের চেতনা ও আবেগকে ধারণ করে গান, কবিতা আবৃত্তি এবং কথামালার মধ্য দিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেন। এর আগে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।  

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .