Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

নওগাঁয় পাইকারিতে বেড়েছে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ

Advertisement

Icon

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম

নওগাঁয় পাইকারিতে বেড়েছে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ

ছবি: যুগান্তর

Advertisement

নওগাঁয় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৫০ টাকায়। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। ভাল দাম পেয়ে কৃষকরা লাভবান হলেও ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- এ বছর জেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। চলতি বর্ষায় প্রায় ১০ হেক্টর আবাদ নষ্ট হয়েছে। দেশি, সাদা ও আকাশি জাতের মরিচ আবাদ করছেন চাষীরা।

শুক্রবার ও মঙ্গলবার নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর সাপ্তাহিক হাটবার। ভোরের আলো ফোটার পর কৃষকরা হাটে মরিচ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সকাল ৮টার মধ্যে মরিচ বেচাকেনা শেষ। এ হাটে কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কৃষকরা মরিচ বিক্রি করতে আসেন। হাটে প্রকারভেদে মরিচ বিক্রি হয় ২৩০-২৫০ টাকায় কেজি। ভাল দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। দাম বৃদ্ধির পর প্রতি হাটে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হচ্ছে।

মরিচের দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা যায়- তিন সপ্তাহ আগে বৃষ্টিতে সবজিসহ মরিচের আবাদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ায় মরিচের উৎপাদন কমেছে। ফলে হাট-বাজারে সরবরাহ কমেছে। দুই সপ্তাহ আগে মরিচের দাম ছিলো ৮০-৯০ টাকা কেজি। যা পর্যায়ক্রমে দাম বেড়ে এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। 

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর বাজার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের হাট। এ হাটে প্রায় ২০-২২ লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। বছরে ৬ থেকে ৭ মাস চলে এই হাট। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। 

কৃষকরা বলেন- সপ্তাহখানেক আগে দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অধিক বৃষ্টি হওয়ার কারণে নিচু এলাকার কাঁচা মরিচের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। মরিচের গাছ নষ্ট হওয়ার কারণে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

সদর উপজেলার ব্রুজরুক-আতিতা গ্রামের কৃষক রুবেল বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছে দুই সপ্তাহ থেকে অল্প পরিমাণ মরিচ উঠানো হচ্ছে। আজ হাটে ২২ কেজি নিয়ে এসে ২৩০ টাকা কেজি দরে দাম পেয়েছি। সপ্তাহে দুদিন মরিচ উঠানো হচ্ছে। দাম ভাল পেয়ে খুশি। তবে কিছুদিন পরে মরিচ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হলে দাম কমে আসবে।

সোহেল নামে এক ক্রেতা বলেন- বেশকিছু দিন থেকে মরিচের দাম বাড়তি। দাম শুনেই চোখ কপালে উঠার মতো। আধাকেজি মরিচ কিনতে এসে ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। এছাড়া অন্য সবজির দামেও আগুন।

পাইকারি ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, চট্টগ্রামে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাঁচা মরিচ কেনা হয়। তিন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে চট্টগ্রামে মরিচ নিয়ে যাই। যেখানে প্রায় ২৫-২৬ লাখ টাকার মরিচ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে হাটে মরিচের সরবরাহ কমে আসায় দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, বাজারে মরিচের দাম ভাল রয়েছে। কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে। তবে আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ যদি বাড়ে মরিচের আবাদ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম