১৬ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসে ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা
মো. সোহরাব হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় চিমনি থেকে অবিরাম ধোঁয়া উড়ত, উৎপাদন ইউনিটে চলত দিন-রাত কর্মচাঞ্চল্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাকে ট্রাকে পৌঁছে যেত কৃষকের প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার।
কিন্তু এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল) প্রায় নীরব। টানা ১৬ মাস ধরে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যয় থেমে নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারখানা সূত্র জানায়, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন বারবার বন্ধ হয়েছে। মাঝেমধ্যে সীমিত গ্যাস সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি।
আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার জানান, ১৯৮৩ সালে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে কারখানাটি বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছে। উৎপাদন সক্ষমতা এখনও থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ। যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পুনরায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন শুরু করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় যন্ত্রপাতি অচল থাকলে সেগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকায় দক্ষ জনবলও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে, যা কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের পরিচালন ব্যয় বহাল রয়েছে। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য ইউরিয়া সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় উৎপাদন কমে গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব দেশের কৃষি খাতেও পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, আশুগঞ্জ সার কারখানা সচল রাখা শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় নয়; এটি দেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসন করে কারখানাটিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
