যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শন
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পালটাপালটি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে কয়েক ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পার্কের মোড়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আপত্তি জানিয়ে ব্যানার সরানোর দাবি করলে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টাঙানো ব্যানার সরাতে ছাত্রদল চাপ সৃষ্টি করে। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে বলা হলেও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগও করেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করায় তারা আপত্তি জানান। ব্যানার সরানোর দাবি করলে শিবিরের নেতা-কর্মীরা চেয়ার ছুড়ে হামলা চালায় এবং এতে ছাত্রদলের এক নেতা আহত হন।
ছাত্রদলের অভিযোগ, পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা এসে হামলায় অংশ নেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রশিবির।
সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনীস্থলের সামনে ছাত্রশিবির এবং মূল ফটকের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে যান। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং শত শত যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে এসে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন দাবি করেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার অপসারণের দাবি জানানো হলে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন।
