‘বিজয় অথবা শহীদ’ লিখেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন রাকিব
Advertisement
শাহজাহান খান, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
রাকিব হোসেন রাজিব। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বিজয় অথবা শহীদ’ এ তিনটি শব্দ লিখেছিলেন। মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে দেওয়া ওই সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসই যেন পরিণত হয় তার জীবনের শেষ অঙ্গীকারে। এরপরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার তরুণ রাকিব হোসেন রাজিব।
সেদিন আকাশে ঝরছিল বৃষ্টি, আর সেই বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওয়ানা হয়।
জানা যায়, ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে মিছিলের সামনের সারিতে থাকা রাকিব হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।সহপাঠীরা গুরুতর আহত রাজিবকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত রাকিব হোসেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেনের ছেলে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শিক্ষাজীবনে রাজিব ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি বাবুগঞ্জের খানপুরা আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচে বিএসসি অধ্যয়নরত ছিলেন।
রাকিবের সহপাঠী হাসানুল বলেন, রাকিব হোসেনসহ আমরা তিন বন্ধু শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। রাকিব হোসেন রাজিব অত্যন্ত মেধাবী ও সাহসী ছিল। সে সবসময় মিছিলের সামনের সারিতে থাকত। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। তবে প্রায়ই বলত, ‘এই দুঃশাসন থেকে হয় স্বাধীন হব, নতুবা শহীদ হব।’
রাকিব হোসেন রাজিবের বড় ভাই আবুল কালাম জানান, পুলিশের ছোঁড়া দুটি গুলি রাজিবের পেটে লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, রাজিব এলাকায় এক প্রতিবাদী ও সাহসী তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যায় দেখলে তিনি প্রতিবাদ করতেন।
তিনি বলেন, দুই ভাই, তিন বোনসহ সাতজনের সংসার তাদের। সন্তান আসবে বলে পথের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন রাকিব হোসেনের বৃদ্ধ মা বাবা। সন্তান হারানোর ২০ মাস পরও মা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা আলমগীর হোসেনও। বাবার বড় স্বপ্ন ছিল রাকিব হোসেনকে উচ্চশিক্ষিত করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে প্রাণ হারান রাকিব। রাকিব হোসেনের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান এ ইউপি সদস্য।
রাকিব হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তার শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস ‘বিজয় অথবা শহীদ’ আজও অনেকের কাছে সাহস, আত্মত্যাগ ও এক তরুণের আদর্শিক অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে আছে।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা বলেন, তথ্য মোতাবেক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৩ যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা নিহতদের পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।
