সেই চিকিৎসক শামীম ভুঁইয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার পক্ষে কাজ করা ‘মানবিক ডাক্তার’ খ্যাত ডা. শামীম ভুঁইয়াকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার কামারকোনা মহল্লার মৃত আলম ভুঁইয়ার ছেলে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
ডা. শামীম ভুঁইয়াকে গ্রেফতারের খবর শুনে বুধবার সকালে বিএনপি, জামায়াত, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাসহ সর্বস্তরের শতশত লোকজন থানায় উপস্থিত হয়ে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তি দাবি করেন।
এলাকাবাসী ও জুলাই আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এবং পরবর্তীতে ডা. শামীম ভুঁইয়া ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন। আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতদের যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হতো না, তখন ডা. শামীম বিনামূল্যে তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি জুলাইয়ের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি অর্ধশত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। এ কারণে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে মানুষের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে পৌর এলাকায় জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন।
ডা. শামীম ভুঁইয়ার ফেসবুক আইডি ও এক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব দাবির পক্ষে সত্যতা পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা দিন। ওরা আপনাদের ভাইবোন-সন্তান।’
একই বছরের ৫ আগস্ট তিনি লিখেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন’।
গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা জহিরুল ইসলাম ও আফজল হুসাইন বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া শুধু জুলাইয়ের পক্ষের লোক নন, বরং তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা। তাকে গ্রেফতার করা অশনিসংকেত। তিনি নানাভাবে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আমরা যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাইনি, তখন তিনি আমাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। আমরা তার মুক্তি চাই। স্বার্থগত কারণে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যারা তাকে গ্রেফতার করিয়েছে, তাদের বিচার চাই।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া আব্দুল্লাহ আল রুমান বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি একজন মানবিক ডাক্তার। আমরা তার মুক্তি চাই।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন রশীদী বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়া একজন ভালো মানুষ। সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি। অবিলম্বে তার মুক্তি চাই।
পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. নাছিম বলেন, ডা. শামীম ভুঁইয়াকে সমাজ ও দেশবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত হতে দেখিনি। তাকে জুলাইয়ের পক্ষের লোক হিসেবেই দেখেছি।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মুশফিকুর রহমান উবাইদুর ও জালালপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম সবুজ বলেন, চিকিৎসক শামীম কতিপয় সুবিধাবাদী লোকের প্রতিহিংসার শিকার। আইনবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত না থাকলে শুধু আদর্শগত কারণে গ্রেফতার সমর্থন করি না। তিনি সমাজের একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা অস্বীকার করার মতো না। আমরাও এ ঘটনায় বিব্রত।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ডা. শামীম ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আইনবিরোধী কোনো কিছুর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা কখনোই ছিল না। বিগত সময়ে পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পদ আমাকে না জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজনীতির সঙ্গে আমার কখনো সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। আমি জুলাই আন্দোলনে বিবেকের তাড়নায় ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলাম। এখন কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থগত চাওয়া পূরণ না হওয়ায় প্রতিহিংসার শিকার হলাম।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডা. শামীম পৌর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
