হাতুড়িপেটা করে শ্রীপুর যুবদল আহ্বায়কের হাত ভেঙে দিলেন সদস্য সচিব
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
হাতুড়িপেটা করে শ্রীপুর যুবদল আহ্বায়কের হাত ভেঙে দিলেন সদস্য সচিব
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার শ্রীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দলবল নিয়ে উপস্থিত হয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদকে একই দলের সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফান হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইউনিয়ন পুলিশিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ওই কমিটির সভাপতি পদে নিজে মনোনীত না হতে পেরে জিয়াউল হক ফরিদ মনোনীত হওয়ায় উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব তুফান লোকজন নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া বাজারে নিশান মার্কেটে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় খামারপাড়া বাজার কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে শ্রীপুর উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব জোয়ারদার শাহ আলম তুফানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ধারাল দা ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদের হাত ভেঙে যায়। এছাড়া সভায় উপস্থিত তরিকুল ইসলাম নামে অপর একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
খামারপাড়া বাজার কমিটির নেতারা জানান, থানার ওসির নির্দেশে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিত হওয়ার কথা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার জন্য সবাই অপেক্ষা করছিলেন; কিন্তু তিনি এসে পৌঁছার আগেই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তুফান কয়েকজনকে সঙ্গে মিটিংয়ে উপস্থিত হন। এ সময় ‘যে মিটিংয়ে আমি নেই, সেই মিটিং হবে না’- এমন কথা বলে তিনি মিটিংয়ে উপস্থিত গণমান্য ব্যক্তিদের উঠিয়ে দেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তারা রামদা এবং হাতুড়ি দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
শান্তি-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত খামারপাড়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ওসির নির্দেশ মোতাবেক স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন লোকজনের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সভায় আহ্বান জানানো হয়। উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফরিদ এবং সদস্য সচিব তুফানকেও আহ্বান জানানো হয়েছিল। তারপরও আকস্মিকভাবে সভায় উপস্থিত হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় আহত শ্রীপুর উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ বলেন, দুই দিন আগে শ্রীকোল ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আমাকে সভাপতি এবং তুফানকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে; কিন্তু তুফান নিজে সভাপতি হতে চাইলে মনোনীত না হওয়ায় সে ক্ষুব্ধ ছিল। এদিন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভা ছিল না। তারপরও স্থানীয় বাজার কমিটির শান্তি-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালিয়ে সভা পণ্ড করে দেওয়া হয়।
হামলার বিষয়ে উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব অভিযুক্ত জোয়ারদার শাহ আলম তুফানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ওসি মো. ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
