Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

Icon

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ অতঃপর জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিকাশ সিকদার নামের এক হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের এক যুবক জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান। সেখানে গিয়ে অনেক টাকার ঋণের কারণে তার স্ত্রী পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। গত ১৫ নভেম্বর বিমল শিকদারের ছেলে বিকাশ সিকদার তার স্ত্রী বাসায় না থাকায় ভাত রান্না করার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীকে ডেকে নেন। একপর্যায়ে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে বিকাশ সিকদার তাকে ধর্ষণ করেন। শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি বিভিন্ন সময় আপত্তিকর এসএমএস দিয়েও বিরক্ত করেন।

একদিকে অসহায় অন্যদিকে লোকলজ্জার ভয়ে তখন মুখ খোলেননি ভুক্তভোগী। দুই মাস পরে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী বলে অনুমান করতে পারলে বিষয়টি তার ননদকে জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকাশ সিকদার ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মঠবাড়িয়া ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার ডিএন্ডসি অপারেশন করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে ২০ মার্চ মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করতে যান ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে জানতে পারলে বিকাশ সিকদার তার দলীয় লোকজন দিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিভিন্ন চাপ দিয়ে মামলা করতে বাধা প্রদান করেন এবং সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ফয়সালা করার চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী পরিবার সালিশ বৈঠক না মেনে গত ২৮ জুলাই পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু  নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মামলা করতে ওই নারী থানায় এলে তার স্বজনরা তাকে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। এ কারণেই ওই নারী ওই সময় থানায় মামলা দায়ের করেননি। হয়তো ওই নারী এলাকায় কোনো সুরাহা না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলম বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। আশা করছি আমরা ন্যায়বিচার পাব।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত বিকাশ সিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধর্ষণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমাকে হয়রানি করার জন্য ওই প্রবাসীর স্ত্রী মিথ্যা মামলা করেছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .