নবাবগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ায় নিহতের স্বজনদের ওপর মিথ্যা মামলার খড়্গ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার নবাবগঞ্জে একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্ত্রী মোসা. বিলকিস বেগম জানান, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সন্ত্রাসী মো. মোজাম্মেল, বিল্লাল, ইউসুফ আহমেদ কায়েস, সোহরাব, দেলোয়ার, তোফায়েল, জামাল ও পারভীনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নির্মম পিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোখলেছুর রহমান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। কিছুদিন পর মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করে। আসামিদের কথামতো মামলা তুলে না নেওয়ায় ভুক্তভোগীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। এমনকি নিহতের ভাতিজাসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, সিআইডিতে কর্মরত এস এম মিরাজ আল মাহমুদের মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৬ জুলাই রাতে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এরপর গত ২৮ জুলাই মামলার ধার্য তারিখে আদালতে যাওয়ার পথেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং আদালতে হাজিরা দিতে বাধা দেওয়া হয়।
স্থানীয় যুবদলের পরিচয় দিয়ে শেখ সেলিম নামের এক ব্যক্তি আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীকে অন্তত ১০ থেকে ১২টি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে হয়রানি করছেন। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি এবং মিথ্যা মামলার ভয়ে বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের জামিন বাতিল করে পুনরায় গ্রেফতার এবং স্বজনদের নামে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায়বিচার দাবি করেন তারা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহতের ফুফাতো বোনজামাই মো. এমদাদুল দেওয়ান এবং আত্মীয় মো. সুজন, মো. হযরত শেখ, ওকেয়া বেগম প্রমুখ।

