Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

একটি দুর্ঘটনায় মা-বাবার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সমাধি

Icon

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

একটি দুর্ঘটনায় মা-বাবার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সমাধি

ইশরাত জাহান পেহেলি

একটি দুর্ঘটনা ভৈরবের বাউল শিল্পী ইশরাত জাহান পেহেলির (১৭) জীবন কেড়ে নিল। এতে তার বাবা মো. বাবুল মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।

পেহেলির অকাল মৃত্যুতে মা-বাবার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সমাধি ঘটেছে। তার মৃত্যুতে ভৈরবের বাড়িতে আজাহারি চলছে।

শুক্রবার সকাল ৭টায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্য ভৈরবের বাউল শিল্পী পেহেলি রয়েছেন। তিনি ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের উত্তরপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার বড় মেয়ে।

নিহত পেহেলির বড় ভাই জিহান জানান, আমার ছোটবোন পেহেলিকে আদর করে পেহেলি ভৈরবী নামে ডাকত। সে ছিল বাউল শিল্পী। ১২ বছর বয়স থেকে পেহেলি গত ৫ বছর ধরে গান গাইত। আমার মা ও স্থানীয় শিল্পীদের কাছে সে গান শিখেছে। তার কণ্ঠ ছিল সুমধুর। এ কারণে তার নামডাক বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠানে সে গান গাইতে যেত।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পেহেলি আমার বাবার সঙ্গে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় সিলেটের রামপাশা বৈরাগী বাজার হজরত ছাবাল শাহ মাজারে পৌঁছায়। পরে রাত ১টায় সেখানে অনুষ্ঠান শুরুর আগে সে আবারও আমার মাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠানস্থল দেখিয়ে গান শুরু করে। তারপর ভোররাতে অনুষ্ঠান শেষ করার পর ভোর ৫টায় ভৈরবের উদ্দেশে সিলেট থেকে বাসে উঠেছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আমার বাবা মোবাইলে আমার মাকে দুর্ঘটনার কথা জানান। খবর শুনে আমার মাসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পেহেলিরা তিন ভাইবোন। তার বাবা ভৈরবে বিল্ডিংয়ের সেন্টারিং ব্যবসা করেন। যেখানেই অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেতেন তার সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে বাবা যেতেন। তার আদরের মেয়েটির এভাবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হবে কখনো ভাবেননি তিনি। এখন বাবা-মায়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

জানা গেছে, সিলেটের কাশিকাপন থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীতগামী বেঙ্গল পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ ৯ জন নিহত হন।

পেহেলির মা রোজিনা বেগম মোবাইলে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমার মেয়ের মৃত্যুতে আমার সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। স্বামীও গুরুতর আহত। আমি নিজে গান করি। মেয়েকে নিজে গান শিখিয়েছিলাম। তার সুমধুর গানে সে জনপ্রিয় বাউল শিল্পী হয়ে উঠেছিল। গানই আমার মেয়ের কাল হলো। এই শোক বেদনা নিয়ে আমি কিভাবে বাঁচব।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পেহেলির বাসায় গিয়ে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের আজাহারি চলছে।

শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিছুর রহমান মোবাইলে জানান, দুর্ঘটনায় ৯ জন মারা যান, কয়েকজন আহত হন। পুলিশ দুটি বাস আটক করে। এ সময় ভৈরবের পেহেলির লাশ দুপুর আড়াইটায় বিনা ময়নাতদন্তে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যান্য সব লাশের পরিচয় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .