মাদ্রাসা থেকে পালাতে যে কাণ্ড ১০ বছরের শিশুর
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
শনিবার ফেনীর দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসার ছয় তলার জানালার কার্নিশে আটকা পড়া শিশুকে উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছয়তলা ভবনের জানালার কার্নিশে গিয়ে আটকা পড়ে ১০ বছরের শিশু ইয়াসমিন আক্তার মিলি। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তাকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কারিগরি কৌশলে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের হাজারী রোড এলাকার দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ইয়াসমিন সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের দুবাইপ্রবাসী আবদুল শুক্কুরের মেয়ে। সে ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন দিনের ছুটি শেষে শনিবার সকালে ইয়াসমিনকে মাদ্রাসায় রেখে যান তার এক খালাতো ভাই। তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটি মাদ্রাসার ছয়তলা ভবনের ছাদে উঠে। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভবনের একটি জানালার কার্নিশে গিয়ে আটকা পড়ে।
এ সময় পাশের ভবনের লোকজন শিশুটিকে কার্নিশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় কারিগরি কৌশল ব্যবহার করে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
ফেনী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুন মিয়া বলেন, দুপুর ১২টার দিকে তারা খবর পান। পরে ছয় তলার কার্নিশ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, শিশুটির সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- মাদ্রাসায় পড়তে অনিচ্ছুক হওয়ায় সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল সে। পরে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদ্রাসার মুহতামিম আবদুল আজিজ বলেন, অভিভাবকরা মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এর আগে আরও দুইবার সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। শনিবার তার এক খালাতো ভাই তাকে মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তারা আগে জানতেন না।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াসমিন আগে গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়ত। সেখানে যেতে অনীহা ও বাড়িতে দুষ্টুমি করায় ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর উদ্দেশ্যে তাকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফেনী শহরের ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
