নারীকে হত্যার পর লাশ টুকরা করে মুড়িয়ে রাখে পলিথিনে, অতঃপর...
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর লাশ খণ্ডবিখণ্ড করে ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়। তবে লাশের শরীরের অন্যান্য অংশ পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকালে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ‘পূর্বাশা আবাসিক এলাকার’ ভূঁইয়া হাউজে এ ঘটনা ঘটে।
আটক লাইলী আক্তার (৩৩) দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই এলাকার মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।
জানা গেছে, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ফরিদা ইয়াসমিনের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তার খণ্ডিত লাশ দেখতে পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবক এবং লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আজাদ এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথাও তিনি জানান বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে। একই সময় লাইলী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পা ও মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
