আত্রাইয়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন, শামিয়ানার নিচে চলছে পাঠদান
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
বিদ্যালয় চত্বরে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। ভবনের খুঁটি ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দেড় মাস ধরে শামিয়ানার নিচে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের ১৪৬ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও তিন কর্মচারী রয়েছেন।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। সেখানে শিশু ও তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৬০ শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে পাঠদান করছেন দুই শিক্ষক। পাশেই একটি টিনশেডের ছোট কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে।
দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। ভবনের খুঁটি ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
গত ২৩ জুন ক্লাস চলাকালে একটি কক্ষের বিমের নিচের অংশ ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে কয়েক দিন বারান্দা ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানো হয়। তবে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি কক্ষে এখনো ঝুঁকি নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে টিনশেড দিয়ে তিনটি কক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহজাবিন সিনহা বলেন, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলছিল। হঠাৎ বিমের পলেস্তারা খসে সহপাঠী ফয়সাল ও সাইদের মাথায় পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান, হাফিজুল ইসলাম ও অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ। কিছুদিন আগে দুই শিশুর মাথায় পলেস্তারা খসে পড়ে তারা আহত হয়েছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
সহকারী শিক্ষিকা মাহবুবা খাতুন বলেন, বর্ষাকাল হওয়ায় এখন বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। শামিয়ানার নিচে মাটিতে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে শিক্ষার্থীরাও ভিজে যাচ্ছে, আমরাও ভিজছি। শামিয়ানায় ফ্যানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করায় শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ফলের দিক দিয়ে উপজেলার মধ্যে প্রতিবছর আমাদের অবস্থান দ্বিতীয় বা তৃতীয়। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ত। অথচ একটি ভবনের অভাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিনশেডের তিনটি কক্ষ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলছে। কাজ শেষ হতে কয়েক দিন সময় লাগবে।
আত্রাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাযহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো ভবনে সমস্যা আছে কিনা, তা জানতে শিক্ষকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভবনের বিমের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর শুনেছি। বিষয়টি জানার পর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাইরে তাবু (শামিয়ানা) টাঙিয়ে পাঠদানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ীভাবে টিনশেডের তিনটি কক্ষ তৈরি করে পাঠদানের জন্য উপজেলা থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

