মাদ্রাসার ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, গুলিবর্ষণ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
মাদ্রাসার ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার আটঘরিয়ায় শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার উপজেলার শিবপুর এলাকায় একপক্ষের মানববন্ধনে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে।
এ সময় তাদের গুলিতে ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে। গুলিবর্ষণকারী টিপু বিশ্বাস (৪২) একই উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসি গ্রামের আহেদ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদের অপসারণ দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় একটি পক্ষ।
এদিকে অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র হচ্ছে মর্মে এর প্রতিবাদে রোববার মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে পালটা মানববন্ধনে দাঁড়ান তারা। এ সময় টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মানববন্ধনে বাধা দেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে প্রতিহত করতে চাইলে টিপু বিশ্বাস তার কোমরে থাকা পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। তারপর তাকে বাধা দেওয়ার সময় ইকরাম মোল্লাকে সরাসরি পেটে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুলিবর্ষণকারীকে ধাওয়া দিলে তিনি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা পুলিশ। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে মানববন্ধন করেন দুই শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ও স্বজনরা।
এ সময় বক্তব্য দেন- হোসেন আলী, বকুল হোসেন, আব্দুস সামাদ, মজনু প্রামাণিক প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা অনেক পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী একটি মাদ্রাসা। খুব সুন্দর ও ভালোভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে; কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনকে নিয়ে একটি পক্ষ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলাউদ্দিন, রাহিমুন, টিপু, নুরুন নবী গং। তারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছেন।
আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, একটি কুচক্রী মহল আমার পেছনে লেগেছে। আমাকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে চায়। এলাকার কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আমি কোনো অনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে কখনই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
হামলা ও গুলিবর্ষণের বিষয়ে অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
