যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের ৭ ঘণ্টার মধ্যে অপহরণের শিকার দোকান কর্মচারী উদ্ধার
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অপহরণের শিকার চা দোকান কর্মচারী মো. বাদশাহকে (২৬) উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া না পেয়ে স্বজনদের উদ্বেগের পর, অবশেষে রাজধানীর খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর সংলগ্ন লা মেরিডিয়ান সড়কের পাশ থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অপহৃত মো. বাদশাহ কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তিনি স্থানীয় রব বাজার চৌরাস্তা এলাকার ফারুক চা দোকানে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন বাদশাহ। বেলা গড়িয়ে গেলেও দোকানে না পৌঁছানোয় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং তার শ্যালক মুনির হোসেন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্ট দেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
স্বজনরা ধারদেনা করে দুপুরে বিকাশ মারফত ১০ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করে ফোন বন্ধ করে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে রোববার দুপুরে দৈনিক যুগান্তরে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাদশার ভায়রা ভাই মো. রনির ফোনে একটি অপরিচিত কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, উত্তর বাড্ডার একটি ছাদে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি রয়েছেন। খবরটি পাওয়ার পর বাদশার নিকটাত্মীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় নম্বরটি ট্র্যাকিং করা হলে অবস্থান পাওয়া যায় ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায়।
কিছুক্ষণ পর বাদশার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি চালু পাওয়া যায়; কল করা হলে একব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করে জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর দিকে লা মেরিডিয়ান সড়কের পাশে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থানরত বাদশার ভায়রা মো. রনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান।
উদ্ধারের পর বাদশার শ্যালক মুনির হোসেন জানান, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে তুলে এনে তাকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। সাথে তার মোবাইল ফোনটিও রেখে যায়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আইনি ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে ধারণা করছে পরিবার।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও চক্রটিকে চিহ্নিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
