বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদে ফাটল, ঝুঁকি নিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
হাসপাতালের ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭৫ সালে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে এক বছর আগে। ভবনের ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল, বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। কোথাও কোথাও ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের থাকতে হচ্ছে আতঙ্কের মধ্যে।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৭৫ সালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫০ বছর। সেই হিসাবে ২০২৫ সালেই ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পুরোনো এ ভবনেই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।
সরেজমিনে হাসপাতাল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। কয়েকটি অংশের পলেস্তারা খুলে পড়ে রড বের হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব অংশের নিচ দিয়েই রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন সজিব হোসেন বলেন, মাকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবনের ছাদের অবস্থা দেখে আতঙ্কে রয়েছি, কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ভবনটি অনেক পুরোনো। সংস্কারের কাজ চলছে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নতুন ভবনের কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, হাসপাতালের ভবনটি ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে ভবনটির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। আমরা প্রকৌশলী নিয়ে এসে ভবনটি পরিদর্শন করিয়েছি। গত অর্থবছর থেকে ভবনটির মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে, যাতে কোনোভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী থেকে প্রকৌশলীরা এসেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, দুটি জায়গায় সমস্যা বেশি হয়েছে। সেখানে শুধু প্লাস্টার করলে তা টেকসই হবে না। এ জন্য কেমিক্যাল রং দিয়ে কাজ করতে হবে, আপাতত কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য।
