ভাঙন রোধে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের জরুরি উদ্যোগ, রক্ষা পেল ৮ গ্রামের মানুষ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষাকাল মানেই যেন মরণ ফাঁদ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সোমেশ্বরী ও নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয় দুর্গাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল। শুরু হয় নদী ভাঙন। অনেক পরিবারই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। দোকান-পাট ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে অনেক ধনাঢ্য পরিবারের। লোকলজ্জার ভয়ে অন্যত্র গিয়ে তারা এখন মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন।
পাহাড়ি ঢলে গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খালের পাড় ভাঙতে শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে ভাদুয়া, চরপাড়া, বড়ইগড়া, আতলা, বহরবিটা, উদয়পুর, শ্রীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বন্দউষান বাজার।
ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। কয়েক বছর ধরে টানা তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েন বন্দউষানসহ আট গ্রামের মানুষ। এ নিয়ে যেন কারো মাথা ব্যথা নাই। ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল ওই এলাকা।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় সংসদের (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। পরে ভাঙনকবলিত এলাকায় সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে ২শ মিটার জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অনেকটা সুরক্ষিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, নদীভাঙন যেভাবে শুরু হয়েছিল, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম হুমকির মুখে পড়ত। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে বাঁধের ব্যবস্থা না করলে আমরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতো। জরুরিভিত্তিতে বাঁধ দেওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। ধন্যবাদ জানাই ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে। মহান আল্লাহ উনাকে নেক হায়াত দান করুন।
বন্দউষান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের বাজারটি অনেকটাই ভেঙে গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পুরো এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে আছে। বাজারের পাশে থাকা মসজিদটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ছিল। আল্লাহর রহমতে এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে বাজার ও মসজিদ দুটিই রক্ষা পেয়েছে। এখন শান্তিতে ব্যবসা করতে পারব। ব্যারিস্টার স্যারকে ধন্যবাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। নদীর বাঁধ না থাকলে আমাদের বাড়িঘরসহ এই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হতো। ব্যারিস্টার স্যারের উদ্যোগে অত্র এলাকায় বাঁধ দেওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। তবে আমাদের দাবি একটাই, বিগত ১৭ বছরে কেউ আমাদের দিকে তাকায়নি। গ্রাম ও বাজারকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য কার্যকর ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।
আমাদের এই বেড়িবাঁধটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নদী ভাঙনের হাত থেকে বাড়িঘর, বাজার ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে হলে এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে হবে। আমাদের উৎপাদিত ফসল উপজেলা শহরে নিতে পারি না। ধান উৎপাদিত হলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নিয়ে বিক্রি করতে হয়। এতে তুলনামুলক দাম কম পাই আমরা। এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে বদলে যাবে অর্থনীতির চাকা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ আমাদের প্রাণের দাবি।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে আমাদের এই বাজারটি প্রায় বিলীনের পথে চলে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। মাত্র ১০ শতাংশের মতো জায়গা এখনো টিকে আছে। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিল। এরই মধ্যে জিওব্যাগ ফেলায় কোনোরকম রক্ষা পেয়েছি আমরা। নয়তো পুরো পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হতো।
তিনি আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে আকুল আবেদন, তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নদীভাঙনের হাত থেকে আমাদের বাড়িঘর ও মানুষজনকে রক্ষা করতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের সময় এ অঞ্চলে নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এবারও ভাঙন শুরু হলে বন্দউষান বাজারসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে ছিল। সময়মতো জিওব্যাগ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে ধন্যবাদ জানাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বিশেষ করে নেতাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বন্দউষান বাজারসহ আশপাশের প্রায় আটটি গ্রামের হাজারও মানুষ নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল ও পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবেন।
