Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ভাণ্ডারিয়ায় শরীফ খুনের নেপথ্যে স্ত্রী ও তিন ছেলে

Icon

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

ভাণ্ডারিয়ায় শরীফ খুনের নেপথ্যে স্ত্রী ও তিন ছেলে

লাশ পড়ে ছিল নদীর বেড়িবাঁধের পাশে। দেখে মনে হচ্ছিল, সেখানেই হয়তো খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের চোখে ধরা পড়ে লাশের মাথা ও কানের পাশে লেগে থাকা কাঠখেকো ঘুণ পোকার গুঁড়ো। সেই অতিক্ষুদ্র আলামতই শেষ পর্যন্ত খুলে দেয় পুরো হত্যারহস্যের জট।

১৬ ঘণ্টার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা এলাকায় ইসমাইল শরীফকে বাইরের লোকে নয়, তার নিজের বসতঘরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে হত্যার ঘটনা আড়াল করতে লাশ ফেলে রাখা হয় নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোটভাই জয়নাল শরীফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ ও রাসেল শরীফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

রোববার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল আনুমানিক ৬টায় তেলিখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় রক্তাক্ত একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভেঙে পড়েন নিহতের ছোট ছেলে রাসেল শরীফ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারান্দার খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুঠার। 

পরে রাতে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করা হয় রক্তমাখা মাটি ও ঘুণ পোকার গুঁড়ো। এছাড়া নিহতের স্ত্রী শেফালীর শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারির ঘটনা ঘটত।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতার চারজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও অধিকতর তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .