স্ত্রীকে মেরে আত্মহত্যা করলেন পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল
Advertisement
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে পরম ভালোবেসে ও নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যেতে রাজি করাতে পারেননি। এজন্য মারধরে স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে যান। এতে স্ত্রী মারা গেছেন ভেবে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন এএসআই আমিনুল ইসলাম। তার স্ত্রী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের রিল্যাক্স জোন আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলামের (৩২) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পপিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মৃত আমিনুল মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ লাইনে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সরেজমিন হাজীশ্বরাই গ্রামে স্ত্রী তাহমিনার বাড়িতে গেলে তার জেঠি জাহানারা বেগম (৬০) জানান, আমিনুরের স্ত্রী-সন্তান নিয়মিত সেই বাড়িতেই থাকত। স্বামী আমিনুল শ্বশুরবাড়ি থেকে শাশুড়িসহ স্ত্রী তাহমিনাকে রোববার সকালে সন্তানের জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাজ আছে বলে বড়তাকিয়া নিয়ে আসে। পরে শাশুড়ি আমেনা বেগমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওরা এখানে কাজগুলো সেরে নিতে হোটেলে উঠবেন বলেন। পরদিন মেয়েকে নিয়ে যেতেও বলেন।
এদিকে এএসআই আমিনুল তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হোটেল রিল্যাক্সে উঠেছেন তা মেয়ে মাকে জানিয়ে রেখেছিল। মা আমেনা ও বাবা ইব্রাহিম হোসেন পরদিন সকাল ৭টায় চলে যান সেই হোটেলে; কিন্তু হোটেলের লোকজন ১০টার আগে কাউকে ভেতরেও যেতে দেননি।
অবশেষে ১০টার পর মা রুমের সামনে গিয়ে অনেক ডাকাডাকির পরও মেয়ে জামাই কেউ উঠছে না দেখে কান্নাকাটি শুরু করে দিলে একপর্যায়ে মেয়ে উঠে কোনোভাবে দরজা খুললে দেখেন আমিনুলের মৃতদেহ ঝুলে আছে আর মেয়ে রক্তাক্ত ও আধমরা। কোনোভাবে উঠে দরজাটা খুলেছে মাত্র।
খবর পেয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ও আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে নিহত আমিনুরের বড়ভাই আবুল হাসান ( ৪৬) ও বোন আনোয়ারা বেগম ( ৪২) বলেন, আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য ওর স্ত্রীই দায়ী। তার মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আমাদের ভাই আত্মহত্যা করেছেন।
তাহমিনাকে চিকিৎসা দেওয়া মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মুনমুন বলেন, তাহমিনার গলায়, চোয়ালে কাটা দাগ, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে- তার অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ তাই আমরা চমেক পাঠিয়েছি।
মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম হোটেল রিল্যাক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষে এসে ঝুলন্ত অবস্থায় এএসআই আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
