Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ছাত্রদল নেতার মামলায় কৃষক সমিতির নেতা গ্রেফতার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

ছাত্রদল নেতার মামলায় কৃষক সমিতির নেতা গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ছাত্রদল নেতার মামলায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন কৃষক সমিতির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদন মো. আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরিবারের সদস্যরা আবু বক্কর সিদ্দিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন কৃষক সমিতির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নাগরপুরের বেকড়া গ্রামের মো. সোহরাব হোসেনের ছেলে।

আবু বক্কর সিদ্দিকর মা লাইলী বেগমের দাবি, শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ পরিচয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোববার সকালে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সাদা কাগজে মুচলেকা দিয়ে চার সদস্যের পুলিশি পাহারায় এমপি রবিউল আউয়াল লাবলুর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এমপি লাবলু তার বাসায় আবু বক্কর সিদ্দিকীকে গালিগালাজ করেন।

লাইলী বেগমের অভিযোগ, এমপি লাবলুর বাসায় থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহরের মাঝে নিয়ে নাগরপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আবু বক্কর সিদ্দিককে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। নিখোঁজের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। রোববার রাতে পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে বেধড়ক মারধর করা হলেও পুলিশ কোনো প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে দেয়নি।

তিনি বলেন, আমার ছেলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। এছাড়াও যারা আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম আসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটায় এবং উসকানিমূলক অপপ্রচার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে রোববার দুপুরে কলেজে যায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে আবু বক্করের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে আমি আহত হই। এ ঘটনায় আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়।

আবু বক্কর সিদ্দিকের শাস্তি দাবি করেন আশরাফুল ইসলাম আসলাম। তবে আসলাম অভিযোগ পত্রে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ দুইজনের নামসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নাম উল্লেখ করলেও তিনি বক্তব্যে বলেছেন তাকে আবু বক্কর সিদ্দিক একাই হামলা করেছেন।

এদিকে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নাগরপুর শাখার সভাপতি খোরশেদুন নাহার ভূঁইয়া বলেন, কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যেত। ঘটনাটি এতদূর গড়াবে এটা আমরা প্রত্যাশা করিনি।

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিবার থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা। মূল বিষয় হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুজব রটানো ও মারামারির ঘটনায় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাবলু বলেন, আমার বিরুদ্ধে গালিগালাজের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা। বর্তমান সরকার রূপরেখা নিয়ে যে উন্নয়ন করছে, সেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এছাড়াও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কিছু আমলা রয়েছে, তারাও তাকে সহযোগিতা করছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .