সিলগালা হোটেলে ‘অনৈতিক কাজ’, ২০ নারী-পুরুষ গ্রেফতার
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ায় সিলগালা করা ‘হোটেল অবকাশ’ নামে অনিবন্ধিত আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসন, র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মহানগরীর তিনমাথা রেলগেট এলাকার ওই হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে ২০ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোটেল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি দুই পুরুষসহ ১৬ জনকে জন-উপদ্রুব আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি সূত্র জানায়, বগুড়া মহানগরীর তিনমাথা রেলগেট এলাকায় হোটেল অবকাশ নামে একটি আবাসিক হোটেল আছে। নিবন্ধন ছাড়া ওই হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জেলা প্রশাসন থেকে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সেই সিলগালা পাশ কাটিয়ে নতুন একটি গেট তৈরি করে। এরপর বাহিরে তালা ঝুলিয়ে রেখে ভেতরে গোপনে অনৈতিক ব্যবসা ও মাদক সেবনের আসর চালিয়ে আসছিল। গোপনে এমন খবর পেয়ে র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির সদস্যরা সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হোটেলটি ঘেরাও করেন। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় হোটেলের নতুন গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পাশের অন্য একটি ভবনের ছাদ থেকে ১৪ জন নারী ও ছয় পুরুষকে আটক করা হয়। এ সময় সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল হক, শাহাজাহান আলী, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। প্রশাসন সিলাগালা করার পরও তারা বিকল্প দরজা তৈরি করে অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। জনগণ সাময়িক অভিযান নয়; স্থায়ীভাবে অনৈতিক আখড়াটি বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ। তিনি জানান, আটকদের মধ্যে চারজন হোটেল পরিচালনায় জড়িত। নিবন্ধনহীন হোটেল সিলগালা করার পরও অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনা করায় তাদের এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী ও দুইজন পুরুষ। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক রাখার দায়ে তাদের বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, হোটেলটি সিলগালা থাকার পরও বিকল্প গেট বানিয়ে ভেতরে অনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে- এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালান। হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। হোটেলের কক্ষ ও ছাদ থেকে মাদকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। শহরের অন্য কোনো অননুমোদিত হোটেলে এ ধরনের কাজ চললে সেখানেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, জেলা প্রশাসন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার ২০ জনের মধ্যে হোটেল পরিচালনায় জড়িত চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪ নারীসহ ১৬ জনকে জন-উপদ্রব আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
