সাঁকো ভেঙে নদীতে জামায়াত নেতা, রক্ষা পেলেন এমপি
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীলফামারীর ডিমলায় জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো পরিদর্শনে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।
বুধবার সকালে নাউতারা ইউনিয়নের নাটাবাড়ি এলাকায় নাউতারা নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো পরিদর্শনের সময় হঠাৎ সাঁকোটির একাংশ ভেঙে পড়ে। এ সময় এমপির সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী নদীতে পড়ে যান। এতে অন্তত দুই জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার অক্ষত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাউতারা নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় নাটাবাড়িসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারে স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে সেখানে কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
বুধবার সকালে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাঁকোটি পরিদর্শনে যান। তিনি সাঁকোর ওপর ওঠার পর তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও সেখানে ওঠেন। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ ও জরাজীর্ণ কাঠের কারণে সাঁকোটির পেছনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী নদীতে পড়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে নদীতে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। এ সময় কয়েকজনের জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং অন্তত দুই জন আহত হন। তবে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার দুর্ঘটনা থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘ব্রিজটি স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি করেছেন। সংসদ সদস্য সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে অনেকেই সাঁকোটিতে ওঠেন। হঠাৎ সাঁকোটি ভেঙে কয়েকজন নিচে পড়ে যান।’
সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন। আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে সেটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা ওঠার পর পেছনের অংশ ভেঙে পড়ে। কয়েকজন পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং দুই জন আহত হয়েছেন। এখানে সরকারি অর্থায়নে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাউতারা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হবে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
