Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জিপিএ-৫ পেল নিরব

Icon

ময়মনসিংহ ব্যুরো

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জিপিএ-৫ পেল নিরব

ইয়াসার ইসলাম নিরব। ছবি: যুগান্তর

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ইয়াসার ইসলাম নিরব।

নিরবের পিতা একজন সাধারণ কৃষক। কোনো প্রতিবন্ধকতাই থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নযাত্রা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসায় একের পর এক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। 

বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরের বিদ্যালয়ে যেতেও প্রতিদিন বাবার সহযোগিতা নিতে হয় ইয়াসারকে। কখনো বাবার কাঁধে, কখনো হুইলচেয়ারে, আবার কখনো বন্ধুদের কাঁধে ভর করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ক্লাশ শেষে একইভাবে ফিরতে হয়েছে বাড়িতে।

একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান নিরবের চোখে এখন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা। 

ইয়াসির ইসলাম নিরব বলেন, শিশু শ্রেণিতে যখন পড়ি তখন আব্বু আমাকে কোলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। পরে স্কুল থেকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। ফাইভ পর্যন্ত লেখাপড়া করে হাইস্কুলে ভর্তি হই। আব্বু আমাকে স্কুলে নিয়ে গেছে, আমার বন্ধুরাও আমাকে স্কুল নিয়ে গেছে এবং দিয়ে গেছে। তাদের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। আমি শুয়ে পড়ালেখা করতে পছন্দ করতাম। পরীক্ষার আগে আগে আব্বু আমাকে বলল, বসে বসে পড়ার চেষ্টা কর, কেননা পরীক্ষায় শুয়ে লেখার কোনো সিস্টেম নাই। এরপর আমি চেষ্টা করতে থাকি। দুই মাস চেষ্টা করে সফল হই এবং এখন বসে লেখতে পারি, তবে শুয়ে লেখলে আমার লেখার স্পিরিট অনেক বেশি থাকে। 

তিনি বলেন, আমি ডান হাতে লেখতে পারি না, বাম হাতে লেখি। আবার হাতের আঙুলগুলোও স্বাভাবিক না। মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বাম হাতে লেখে আমি সোনার হরিণ জিপিএ-৫ পেয়েছি। তবে আমি আশাবাদী ছিলাম আমি গোল্ডেন এ (প্লাস) পাব। আমি কখনো প্রাইভেট পড়ি নাই। আমার পড়ালেখার যত অর্জন সবকিছুর ভাগিদার আমার শিক্ষকরা। আমি তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। যদি কখনো সুযোগ পাই তাহলে তাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। পরীক্ষার দিন আমার টেবিল ও হুইলচেয়ার নিয়ে পরীক্ষার সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। 

নিরব বলেন, আগামীতে এইচএসসি শেষ করে মেডিকেলে চান্স নিতে চেষ্টা করব। আমার স্বপ্ন ছিল বড় কলেজে পড়ব। আমার এ ফলাফল সবার জন্য উৎসর্গ করলাম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, আমি যেন আমার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থাটা উনারা করবেন।

পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম সায়ফুল ইসলাম কাজল বলেন- নিরবের বাবা, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবসহ সবাই অনেক আন্তরিক ছিলেন। এর ফলে আজকের অভাবনীয় ফল। আমার বিদ্যালয় তাকে নিয়ে গর্ব করে। ভবিষ্যতে নিরব অনেক ভালো করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, নিরবের এ সাফল্য নিঃসন্দেহে গর্বের। ভবিষ্যতের সফলতা অর্জনে কোনো বাধাই থাকবে না। লিখিত আবেদন করলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমরা সহযোগিতা করব।

ঘটনাপ্রবাহ: এসএসসি পরীক্ষার ফল ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .