|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার শেরপুরে গাছ কাটতে গিয়ে পরিযায়ী শামুকখোল পাখির কিছু ছানা হত্যা ও ডিম ধ্বংস করার অপরাধে গাছের মালিক আজাহার আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শেরপুর বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার সালাহ উদ্দিন পারভেজ বুধবার শেরপুর থানায় এ মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা হায়েদ আলীর ১৬ শতক জমিতে গড়ে উঠেছে পাখিদের কলোনি। বর্তমানে ওই জমির মালিক তার ছেলেমেয়েরা। গত ২০১৪ সালে থেকে এই গ্রামে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়। জমিতে থাকা ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সি পিতরাজ, জলপাই, বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে পাখিগুলো বাসা বাঁধে।
স্থানীয়দের মতে, সেখানে এখন প্রায় ৫০০ গাছে পাখির বাসা আছে। এর মধ্যে শামুখোলই বেশি। বর্ষা মৌসুমে এই পাখির প্রজনন কাল হওয়ায় এ সময় পাখিরা বাসা বাঁধে। ডিম ফুটে বাচ্চা বড় হলে শামুকখোল সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাসা ছাড়তে শুরু করে।
সম্প্রতি হায়েদের ছেলে আজাহার আলী ও অন্যরা তাদের মালিকানাধীন জলপাই, পিতরাজসহ সাতটি বড় গাছ কাঠ ব্যবসায়ী চাঁন মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন। গত ৮ আগস্ট সকাল থেকে করাত দিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু হয়। এ সময় মগডাল থেকে পাখিদের শতাধিক বাসা মাটিতে পড়লে ডিমগুলো ভেঙে যায়। এ সময় বাসায় থাকা বেশকিছু ছানা মারা যায়। তবে স্থানীয় বন বিভাগ ও গ্রামবাসী এর সঠিক সংখ্যা বলতে পারেননি।
এদিকে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি শেরপুর বন বিভাগের নজরে আসে। বুধবার সকালে বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার সালাহ উদ্দিন পারভেজ শেরপুর থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের ৪১(৪) ধারায় মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আজাহার আলী কথা বলতে রাজি হননি। তার ভগিনীপতি বাবলু মিয়া জানান, নতুন ঘর নির্মাণের জন্য অর্থের প্রয়োজন। এ কারণে তারা গাছগুলো বিক্রি করেছেন। তবে কতগুলো পাখির বাসা ভাঙা পড়েছে এবং কয়টা বাচ্চা মারা গেছে তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানায়, রামনগর গ্রামে ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখির বিচরণ রয়েছে। প্রায় ৫শ গাছে অন্তত দুই হাজার শামুকখোল পাখির বাসা আছে।
তারা বলেন, এভাবে গাছ কাটায় পাখির পুরো কলোনিটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার’ সভাপতি সোহাগ রায় সাগর বলেন, এসব কলোনি রক্ষায় বন বিভাগকে বারবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা কেবল পরিদর্শন করে চলে যান।
বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রহমান জানান, বন্যপ্রাণী ও বন আইনে পাখি কলোনির জন্য জমির মালিককে সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো বিধি নেই। তবে বন্যপ্রাণী বা পাখি থাকা অবস্থায় কোনো গাছ কাটা হলে পাখির আবাসস্থল ও পাখি হত্যার অভিযোগে ‘বন্যপ্রাণী আইন-২০২৬’ অনুযায়ী শাস্তির বিধান আছে।
বগুড়ার সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক মতলুবুর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০২৬ অনুযায়ী শামুকখোল পাখির ছানা হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে জমির মালিককে আমরা অভিযুক্ত করতে পারি। জমির মালিক হিসেবে গাছ তার হতে পারে; কিন্তু পাখির ছানাকে মেরে ফেলার অধিকার তার নেই। তাই গাছের মালিকের বিরুদ্ধে রেঞ্জ অফিসারকে মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, বন বিভাগের মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
