ঝর্ণার পাশে পুঁতে রাখা হয় ব্যবসায়ীর লাশ, গারো নারী-পুরুষসহ আটক ১৯
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নিখোঁজের আট দিন পর বিল্লাল হোসেন নামে এক ধান ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গারো সম্প্রদায়ের নারী পুরুষসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্ব গজারীকুড়া এলাকার রঞ্জনা ঝর্ণার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় বিল্লাল হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জারুলতলা এলাকার বাসিন্দা ও ধান ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন চলতি মাসের ৪ আগস্ট নিখোঁজ হন। বুধবার দুপুরে স্থানীয় কৃষকরা জমিতে কাজ করতে গেলে খালের পাশ থেকে দুর্গন্ধ পান। পরে সন্দেহ হলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশ দেখতে পান তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় জনতা পূর্ব গজারীকুড়া এলাকার ওয়াসিম ম্রংসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৯ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বাড়িঘর লুটপাটের গুজব ছড়ায়।
এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নূর মোহাম্মদ।
তবে জেলা পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বুধবার দুপুরে জানতে পারি এখানে বিল্লাল হোসেন নামে একজনের লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে; সেজন্য আমরা ঘটনাস্থলে আসি। গত ৪ তারিখে ঝিনাইগাতী থানায় বিল্লাল হোসেন নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ছিল। আমরা এবং নিখোঁজের আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজাখুঁজির পর আজ তার লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৯ জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। তাদের যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
