অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে নারীর চুল কেটে গলায় জুতার মালা
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক নারীকে চুল কেটে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করেছে স্থানীয় লোকজন।
পাশাপাশি ওই গ্রামপুলিশ সদস্যকেও একই কায়াদায় নির্যাতন করা হয়। তাদের দুজনকে একসঙ্গে গ্রাম ঘোরানো হয়েছে। নির্যাতনের একাধিক ভিডিও দুদিন ধরে ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে।
গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। আর ওই নারী এখন বাড়িছাড়া।
গ্রাম পুলিশ সদস্যের দাবি, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন এবং স্থানীয় দোকানগুলোতে পাইকারি দামে পণ্য দিতেন। ৯ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় টাকা দেবেন বলে চলে যান। টাকা নিতে বাড়ি যেতে বলেন।
গ্রাম পুলিশ বলেন, সেখানে যাওয়া মাত্রই স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী তাকে ওই নারীর ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে দুজনের (কলা বিক্রেতা ও ক্রেতা) মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক আছে। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে লাভলু। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশপাশের লোকজন ডেকে মারধর করে। দুজনের গলায় জুতার মালা, কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। নারীর চুল কেঁটে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা মুক্ত হন।
পাঁচুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান রতন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
