Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কৃষককে হত্যার জের

দেড় শতাধিক ঘরে হামলা, লাথিতে প্রসূতির সন্তান নষ্ট

Icon

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

দেড় শতাধিক ঘরে হামলা, লাথিতে প্রসূতির সন্তান নষ্ট

রায়পুরায় পূর্ব বিরোধের জেরে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলা থেকে রেহাই পাননি নারী ও শিশুরাও।

এমনকি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ২ আগস্ট সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকার সরকার বাড়িতে মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়া ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোমেন মিয়া নামে এক কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই আমিন মিয়া ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার পর গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এর পর থেকে কয়েকদিন ধরে মোমেন গ্রুপের সমর্থকরা ফরিদ গ্রুপের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তার বলেন, বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করে। পায়ের স্যান্ডেল ছাড়া বাড়ি থেকে আর কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি।

হেপি নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন লোক হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা ও মালামাল লুট করতে গেলে বাধা দেন তিনি। এ সময় তাকে মারধর করে হাতে আঘাত করা হয়। এছাড়া ছাগল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় ১৭১টি বসতঘর ও ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদাগরকান্দি গ্রামের লঞ্চঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক ককটেল ও একটি বন্দুকসহ সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যৌথ অভিযানের পরও রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান চালানোর পর রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .