ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস–সংকটে ভোগান্তি, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সরবরাহ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার রাত থেকে সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দিনভর অনেক এলাকায় গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস না থাকায় পরিবহণ খাতেও দেখা দেয় অচলাবস্থা।
গ্যাস না পাওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হালিম বলেন, কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক গ্যাস না পেয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ফেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাত থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সরাইল ও সদর উপজেলার কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস এলেও কিছুক্ষণ পর আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি। কেউ মাটির চুলায় রান্না করেছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক হাসনা হেনা জানান, সকাল থেকে তার বাসায় গ্যাস ছিল না। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস না আসায় তাকে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।
শহরের কান্দিপাড়ার বাসিন্দা আকলিমা বেগম বলেন, সকাল থেকে চুলায় আগুন ধরাতে পারিনি। আমার ছেলেরা দোকান থেকে রুটি কিনে খেয়েছে। এভাবে গ্যাস না থাকলে আমরা চলব কীভাবে?
সরাইলের কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা বশিরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বাসার চুলায় কোনো গ্যাস ছিল না। বিকালের দিকে গ্যাস এলেও চাপ ছিল খুবই কম। কিছুক্ষণ পর আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও। গ্যাস না পাওয়ায় চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা শংকর দাস জানান, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত সাধারণত জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার তাকে ৭০ টাকা দিতে হয়েছে।
অটোরিকশাচালক রাসেল মিয়া বলেন, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৭৮। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, রেস্তোরাসহ বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন ১৬১ জন। জেলায় প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। শীতকালে গড়ে ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং গরমকালে প্রায় ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল হক বলেন, এলএনজি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বুধবার থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমেছে। এলএনজির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমস্যাটি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
