Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

টানা ৩ দিন গ্যাস নেই হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে

Icon

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ এএম

টানা ৩ দিন গ্যাস নেই হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে টানা ৩ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে জেলার ছোট-বড় দেড় শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক কারখানায় শুধু উৎপাদনই বন্ধ নয়, বিদুৎ সংকটে পুরো কারখানা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে।

এদিকে গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। পাশাপাশি তারা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

অন্যদিকে কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের মুখে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটছে এসব শ্রমিক-কর্মচারীদের।

  • বন্ধ দেড় শতাধিক কারখানা
  • অর্ডার বাতিল, প্রতিদিন কোটি টাকা লোকসানে শিল্পোদ্যোক্তারা
  • চাকরি হারানোর আতঙ্কে দেড় লাখ শ্রমিক

স্কয়ার ডেনিম লি.র মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস-বিদুৎ নেই। মেশিন বন্ধ। বেশি সময় বন্ধ থাকলে মেশিনগুলোও নষ্ট হতে পারে। 

তিনি জানান, দৈনিক তাদের গ্যাসের চাহিদা একটি লাইনে ১০২৫৯৭ কিউবিক মিটার এবং অপর লাইনে ৮৬০২৮ কিউবিক মিটার। ৩ দিন ধরে কোনো লাইনেই গ্যাস নেই।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, প্রতি মাসে আমাদের ১০ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার গ্যাস প্রয়োজন। সে হিসাবে দৈনিক প্রয়োজন ৩৪ হাজার ৫শ ঘনমিটার। আজ (শুক্রবার) সকালে ৬০ শতাংশ গ্যাস দিয়েছে। কিন্তু দুপুর ১২টায় হঠাৎই সরবরাহ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এ অবস্থায় মেশিন চালানো অত্যন্ত কঠিন। বারবার বিদুৎ যাওয়া-আসা করলে মেশিনও বিকল হয়ে যেতে পারে। এসব মেশিন অত্যাধুনিক। এগুলো নষ্ট হলে মেরামত করাও একটা চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। আমরা যারা শিল্পে কাজ করি তারাও উদ্বিগ্ন। মালিকপক্ষ কতদিন লোকসান গুনবে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মানুষ চাকরি হারাবে।

মো. আবুল বাশার বলেন, ইতোমধ্যে ১৩ শতাংশ রপ্তানি কমে গেছে। বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বাতিল হচ্ছে। আসলে দেড় লাখ শ্রমিক তো শুধু দেড় লাখ নয়। এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। যদি প্রত্যেকের সঙ্গে ৫ জন করে ধরি তবে সাড়ে ৭ লাখ মানুষের ভাগ্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যেমন—সুতার সঙ্গে কাপড়ের সম্পর্ক। কাপড় যারা তৈরি করেন তারা রপ্তানি না করতে পারলে সুতা নেবেন না।

সায়হাম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক জানান, শুক্রবার তারা একেবারেই গ্যাস পাননি। তবে শ্রমিকদের ছুটি দেননি। আশায় আছেন কখন গ্যাস আসে। সরবরাহ শুরু হলেই যেন মেশিন চালু করতে পারেন।

তিনি বলেন, গ্যাস না থাকা বা বারবার আসা-যাওয়ার কারণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছু যন্ত্র আছে যেগুলো আসলে মেরামতযোগ্য নয়।

জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি শিল্পকারখানা রয়েছে। ২০ দিন ধরে চলছে গ্যাস সংকট। বুধবার থেকে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্তত দেড় শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো কারখানায় কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কারখানায় সুনসান নীরবতা। কোনো কোনোটিতে আবার শ্রমিকদের হাজিরা ঠিক রাখা হয়েছে। 

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরাস দেবনাথ বলেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো উত্পাদন যাচ্ছিল না। এখন গ্যাস একেবারেই নেই। তাই কারখানায় কাজও বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নারী কর্মচারী শেফালী বেগম বলেন, আমরা প্রতিদিন কাজ করেই সংসার চালাই। কারখানা না চললে আমাদের কাজও বন্ধ, আয়ও বন্ধ। কতদিন এভাবে চলবে, সেটিও জানি না।

এ বিষয়ে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশের যা অবস্থা আমাদেরও একই অবস্থা। কোনো উন্নতি নেই। আগের মতোই আছে। গত রাতে (বৃহস্পতিবার) কিছুটা পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু সময় পরই আবার আগের মতো বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা শুনেছিলাম ১৫ আগস্ট (আজ) থেকে ঠিক হবে। কিন্তু অফিশিয়ালি আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা শুধু বিতরণ করি। গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে পেট্রোবাংলা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .