গ্রামে একক মেয়রপ্রার্থী রাখতে ভোটের আগেই ভোট
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়—এটাই প্রচলিত নিয়ম। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। পৌরসভা নির্বাচনের আগেই নিজেদের পছন্দের মেয়রপ্রার্থী বাছাই করতে ভোট দিচ্ছেন একটি গ্রামের বাসিন্দারা। আর এ ভোটকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এ ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ নির্বাচনকে স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে ‘ভোটের আগে ভোট’।
জানা গেছে, আসন্ন আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে দেবগ্রাম থেকে একাধিক ব্যক্তি মেয়রপ্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করে গ্রাম সমর্থিত একক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতেই এ নির্বাচনের আয়োজন। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে দেবগ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হবে।
দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের ব্যানারে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন—আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ (ফুটবল), শেখ মো. আমজাদ হোসেন বাবু (মোরগ) ও বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন (ছাতা)।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আখাউড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দেবগ্রাম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাজার-বাগানবাড়ি এলাকার মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পুরুষ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সমানসংখ্যক নারী ভোটার থাকলেও তারা এ ভোটে অংশ নিচ্ছেন না।
দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রের চারটি বুথে জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের আদলেই ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, চলতি বছরের শুরুতে অন্তত ছয়জন মেয়রপ্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে মে মাস থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ শুরু হয়। একাধিক বৈঠকের পর একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে তফশিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার জানান, কাগজ-কলমে এটি ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। তবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত গ্রামের পক্ষ থেকে একজনকে বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাকে মেয়র বা অন্য কোনো নির্বাচনে গ্রামের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মেয়র পদে আগ্রহী ছয় প্রার্থী নিজেদের মধ্যে একমত হতে না পারায় পুরুষ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে একজনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে গ্রামবাসী একটি বড় কমিটি গঠন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। প্রার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জামানত ও আমানত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের একজন জানান, নির্বাচনের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে; যা অফেরতযোগ্য। বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরতযোগ্য। তবে গ্রামবাসীর নির্বাচিত প্রার্থী হওয়ার পর কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। ওই অর্থ গ্রামটির উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
গ্রামের বাসিন্দা মো. খালেদ যুগান্তরকে বলেন, আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করতেই ভোটের আগে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা গ্রাম থেকে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে জিতিয়ে আনব—এটাই আমাদের বিশ্বাস।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার নবী নেওয়াজ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থীরা সবাই আমাদের চাচা-ভাই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত হোক, আমরা তা চাইনি। তাই ভোটের আগেই ভোট করে একক মেয়রপ্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে দিয়েই আসন্ন আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হবে।
তিনি জানান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাজার ও বাগানবাড়ি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দেবগ্রামের ৩ হাজার ২৭০ জন পুরুষ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।
আখাউড়া থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেবগ্রামে ভোটের আগে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি না ঘটে, সে জন্য ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।
