Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ শুরু

Icon

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ শুরু

ছবি: যুগান্তর

চার দিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এতে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। উৎসাহ নিয়ে দল বেঁধে কর্মস্থলে ফিরেছেন শ্রমিকরা। কারখানা চালু করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারাও।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।

জালালাবাদ গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কোনো সমস্যা না হলে শনিবারের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তারা কারখানা চালু করতে সক্ষম হন। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও তাদের চিঠি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো হওয়ার কথা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, মিল বন্ধ থাকলে আমাদের পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে, এটাই আমাদের কামনা।

স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পেয়েছেন। গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর জেনারেটর ও মিল চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাস চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেশিন চালু করা যায় না। গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে জেনারেটর ও মিল চালু করেছি। সবাইকে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।

কারখানার শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল—কারখানা যদি বেশিদিন বন্ধ থাকে, তাহলে আমাদের চাকরি থাকবে কি না। আমরা চলব কীভাবে? মালিক কতদিন লোকসান করে আমাদের বেতন দিয়ে চালাবেন? আজ থেকে আমরা কাজে ফিরতে পেরেছি। খুবই আনন্দ লাগছে।

আরেক শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, কয়েকদিন কারখানা বন্ধ থাকায় যেমন উদ্বেগ ছিল, তেমনি কর্মহীন সময়ও কাটতে চাইছিল না। শনিবার থেকে কাজে ফিরতে পেরে তিনি খুশি।

শ্রমিক শিউলি আক্তার বলেন, বেশিদিন কারখানা বন্ধ থাকলে একসময় হয়তো আমাদের চাকরি চলে যেত। তখন আমরা চলতাম কীভাবে? সন্তানদের পড়াশোনার খরচই বা চলত কী দিয়ে? মালিক কতদিন লোকসান করে আমাদের বেতন দিতেন? এখন কোম্পানি আবার চালু হয়েছে। কাজে ফিরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। প্রায় ২০ দিন সংকট থাকলেও সামান্য গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এর বড় একটি অংশ রপ্তানি আয়। একই সঙ্গে একের পর এক বৈদেশিক ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

এর আগে গ্যাস কর্তৃপক্ষ শিল্পসংশ্লিষ্টদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী শুক্রবার রাত থেকে সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও কোনো কোম্পানি শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। শনিবার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় তারা আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন। এতে দীর্ঘ কয়েকদিন পর ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .