শেরপুরে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ছানা ধ্বংসের মামলায় গ্রেফতার ১
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার শেরপুরের রামনগর গ্রামে পাখি কলোনিতে গাছ কেটে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংস করার মামলার আসামি আহাজার আলীকে (৭৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। শেরপুর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকালে শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন এ তথ্য দিয়েছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা হায়েদ আলীর ১৬ শতক জমিতে গড়ে উঠেছে পাখিদের কলোনি। বর্তমানে ওই জমির মালিক তার ছেলেমেয়েরা। গত ২০১৪ সালে থেকে এই গ্রামে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়। জমিতে থাকা ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পিতরাজ, জলপাই, বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে পাখিগুলো বাসা বাঁধে। স্থানীয়দের মতে, সেখানে এখন প্রায় ৫০০ গাছে পাখির বাসা আছে। এর মধ্যে শামুকখোলই বেশি। বর্ষা মৌসুমে এই পাখির প্রজনন কাল হওয়ায় এ সময় পাখিরা বাসা বাঁধে। ডিম ফুঁটে হওয়া বাচ্চা বড় হলে শামুকখোল সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাসা ছাড়তে শুরু করে।
সম্প্রতি হায়েদের ছেলে আজাহার আলী ও অন্যরা তাদের মালিকানাধীন জলপাই, পিতরাজসহ সাতটি বড় গাছ কাঠ ব্যবসায়ী চাঁন মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন। গত ৮ আগস্ট সকাল থেকে করাত দিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু হয়। এ সময় মগডাল থেকে পাখিদের শতাধিক বাসা মাটিতে পড়লে ডিমগুলো ভেঙে যায়। বাসায় থাকা বেশকিছু ছানা মারা যায়। তবে স্থানীয় বন বিভাগ ও গ্রামবাসীরা এর সঠিক সংখ্যা বলতে পারেননি।
এদিকে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি শেরপুর বন বিভাগের নজরে আসে। ১২ আগস্ট সকালে শেরপুর বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার সালাহ উদ্দিন পারভেজ শেরপুর থানায় বন্যা প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের ৪১ (৪) ধারায় মামলা করেন। মামলায় আজাহার আলীর নাম উল্লেখ ও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।
এদিকে শেরপুর থানা পুলিশ শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আজাহার আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির দেওয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। পুলিশ জঙ্গলে ধাওয়া করে তাকে গ্রেফতার করে।
শনিবার বিকালে শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, তদন্তে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ডিম নষ্ট করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রেফতার প্রধান আসামি আজহার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, শুনানী শেষে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
