হজরত শাহজালাল (র.) মাজার
দানবাক্সে প্রায় ৭১ লাখ টাকাসহ বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণ-রুপা
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
হজরত শাহজালাল (র.) মাজারের ডেগ ও দানবাক্স ফের প্রকাশ্যে গণনা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের হজরত শাহজালাল (র.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ১ মাস ৪ দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ গণনায় নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রুপা পাওয়া গেছে। সন্ধ্যায় গণনা শেষে সার্বিক চিত্র ও প্রাপ্ত সম্পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সিসিক প্রশাসক জানান, মাজারে প্রাপ্ত নগদ প্রায় ৭১ লাখ টাকা ছাড়াও ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি দেশের বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩১.১১ পাউন্ড, ৩,২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১,০০০ ওমানি বায়সা, ৬৪ ইউএই দিরহাম, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১,০০০ ভিয়েতনামি ডং, ১,০০০ জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিসরীয় পাউন্ড, ০.৪০ ইউরো, ১ বাহরাইনি পয়সা ও ১ কানাডিয়ান ডলার। এর বাইরে সাধারণ ভক্তদের নজরানা হিসেবে বেশ কিছু গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিও জমা পড়েছে।
গণনা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে গঠিত কমিটি অতি দ্রুত এই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে। পরবর্তী থেকে সেই নীতিমালার আলোকেই টাকা গণনা ও সার্বিক তহবিল পরিচালনা করা হবে। উক্ত প্রক্রিয়ায় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টায় মাজারের ৩টি ডেগ ও ৩টি বড় দানবাক্সের সিলগালা খোলা হয়। প্রশাসনিক তদারকিতে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবীর টানা প্রচেষ্টায় বিকেল নাগাদ টাকা গণনা সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ে জবাবদিহি নিশ্চিতে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স স্থাপনের নির্দেশ দিলে মাজার কর্তৃপক্ষের সাথে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। ঐ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মধ্যস্থতায় ২৬ জুন সার্কিট হাউসে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। পূর্বের দুই দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
