Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা কারখানা

মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেনসালফাইডেই মৃত্যু

Icon

আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেনসালফাইডেই মৃত্যু

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি ছিল। এই গ্যাসের কারণে ৯  শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।

অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা, বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইয়ার্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মালটি-গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। 

এক মাস আগে হয়েছিল মামলা : অভিযোগ আছে, পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করার পর সংশোধনের জন্য নোটিশ ও তাগিদ দিয়েছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। কিন্তু শিপ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সূত্র জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আগে একাধিকবার পরিদর্শন চালিয়ে বেশকিছু পেশাগত ও অগ্নি নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার কারখানাটি পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়। ৪ মে আবারও পরিদর্শন করে আগের নির্দেশনার অগ্রগতি না পাওয়ায় সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের  তাগিদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৮ জুন অগ্নি ও পেশাগত নিরাপত্তা জোরদারে চূড়ান্ত নোটিশ ও তাগিদ দেওয়া হয়। এরপরও নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত জুলাইয়ে চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে ফেরদৌস করপোরেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করে ডিআইএফই। পরিদর্শক মো. সাহেদ পারভেজ তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

শ্রমিকদের অভিযোগ শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনও অনেক শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড মালিকের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি রয়েছে। একটি গ্রিন ইয়ার্ডে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একসঙ্গে এতগুলো শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ কোনো ইয়ার্ডকে ১০০ ভাগ নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাড়াহুড়া না করে হংকং কনভেনশনের সব নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে জাহাজ রিসাইক্লিং করতে হবে। 

তদন্ত কমিটির কাজ শুরু : এ ঘটনার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি-না, তা অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। 

শুক্রবার সংঘটিত দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .