জমি না পেয়ে শ্বশুরকে হত্যা করেন পুত্রবধূ, দাফনের প্রস্তুতিকালে লাশ উদ্ধার
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটার জমি লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
হত্যাকাণ্ডের পর দাফনের প্রস্তুতিকালে লাশ উদ্ধার করে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলার পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুত্রবধূর সঙ্গে মনোমালিন্য থাকায় বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে তিনি নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন শনিবার সকালে স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় পান। এরপর তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে লাশের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর হোসনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও তার সৌদি আরব প্রবাসী স্বামী ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। জমি না দেওয়ায় শ্বশুরকে হত্যা করতে দুঃসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন হোসনা বেগম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ঘরে ঢোকার সুবিধার্থে হোসনা বেগম পেছনের দরজা খুলে রাখেন। পরে চুক্তিভিত্তিক ঘাতকরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধকে গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
