Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সুপারির চারা খাওয়ায় পা বেঁধে খালে ফেলে দুটি ছাগলকে হত্যার অভিযোগ

Icon

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

সুপারির চারা খাওয়ায় পা বেঁধে খালে ফেলে দুটি ছাগলকে হত্যার অভিযোগ

এতে দুটি মারা গেছে এবং অপরটি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

পিরোজপুরের নেছারাবাদে চারটি সুপারি চারা খাওয়ার অভিযোগে দুটি ছাগলের চার পা বেঁধে খালে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাগল দুটির মালিক একই গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. হালিম হাওলাদার। ওই দিন রাতে তিনি মৃত ছাগলগুলো নিয়ে নেছারাবাদ থানায় একই এলাকার বাসিন্দা সুনীল হালদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

হালিম হাওলাদার জানান, তার বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তার পাশে সুনীল হালদারের লাগানো সুপারি চারার বাগান রয়েছে। সকালে তিনি ছাগলগুলো ঘরে রেখে খাবার সংগ্রহ করতে বের হন। দুপুরে বাড়ি ফিরে ছাগলগুলো না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। 

বিকালে সুনীলের সুপারি বাগানের পাশের খালে চার পা বাঁধা অবস্থায় ছাগলগুলোকে ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে দেখা যায়, দুটি ছাগল মারা গেছে এবং অপরটি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

হালিমের অভিযোগ, তার তিনটি ছাগল সুনীলের চারটি সুপারি চারা খেয়েছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুনীল ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেন।

হালিম বলেন, আমি গরিব মানুষ। তিনটি ছাগলই আমার সম্বল। চারটি সুপারি চারা খাওয়ার অপরাধে আমার ছাগলগুলোকে এভাবে বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে সুনীলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোর অবস্থাও ছাগলের মতো হবে।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. শাহাদাৎ বলেন, হালিম অত্যন্ত দরিদ্র। তার তিনটি ছাগল সুনীলের চারটি সুপারি চারা খেয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়। এতে দুটি মারা গেছে এবং অপরটি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল গাজীও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হালিম হাওলাদার দরিদ্র মানুষ। সুপারি চারা নষ্ট করার অভিযোগে ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দুটি মারা গেছে এবং আরেকটির অবস্থাও খুবই খারাপ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুনীল হালদার বলেন, ছাগলগুলো আমার সুপারি চারা খেয়েছে। আমি শুধু তাড়িয়ে দিয়েছি, মারিনি।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .