৭ চিকিৎসকে চলছে নাঙ্গলকোটের স্বাস্থ্যসেবা
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
এতে উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ২১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে ৬টি পদই শূন্য। এর মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসক বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং তিনজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।
ফলে বর্তমানে মাত্র সাতজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এতে উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ ২১টি। এর মধ্যে ছয়টি পদ শূন্য থাকায় শুরুতেই জনবল ঘাটতি রয়েছে।
এর ওপর কর্মরত পাঁচজন চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। আরও তিনজন চিকিৎসক বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র সাতজন।
সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকরা হলেন—মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিনা চৌধুরী, বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসিআর শাখায় কর্মরত। মেডিকেল অফিসার ডা. নূর উদ্দিন খন্দকার রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখায়। মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কর্মরত আছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিকেল অফিসার ডা. টি এফ ফাহাদ নাছিফ রয়েছেন ঢাকার নিটোরের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগে। আর মেডিকেল অফিসার ডা. অদ্বিতীয় ঘোষ কর্মরত আছেন কুমিল্লা সদর হাসপাতালে।
শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও পাঁচজন চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক সরকারি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসক না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের আম্বিয়া বেগম (৫০) বলেন, সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। পরে অন্যরা মাথায় পানি দিয়ে আমাকে সুস্থ করেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, চিকিৎসকরা সংযুক্তিতে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের সংযুক্তি বাতিলের জন্য বিভাগীয় পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার রেজা বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে চিকিৎসকদের সংযুক্তি দেওয়া হয়। তবে নাঙ্গলকোট থেকে যাদের সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাই সংযুক্তির নির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না।
