Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ, সড়কে কোমর সমান পানি

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ, সড়কে কোমর সমান পানি

চট্টগ্রামে রোববার রাত থেকে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কখনো হালকা কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কিছু নিচু এলাকা আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামীরা দুর্ভোগে পড়েন।

নগরের মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি, প্রবর্তক মোড় ও আগ্রাবাদ মুহুরী পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। কোনো কোনো সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়।

এক মাস আগেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে টানা বৃষ্টিতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় নগরীর নীচু এলাকা ডুবে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েন লাখ লাখ বাসিন্দা। তার ক্ষত না শুকাতেই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ডুবল নগরী। এবার নতুন করে ডুবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে হেলদিওয়ার্ড খ্যাত নগরীর ২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ড। 

অতীতে তুমুল বৃষ্টিতেও জামাল খান সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়নি। সোমবার ভোরের বৃষ্টিতে এবার হেলদিওয়ার্ডও ডুবল। চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজারের শত শত দোকানে পানি ঢুকে পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

জামাল খান এলাকার চশমাব্যবসায়ী কমল দাশ যুগান্তরকে বলেন, এক মাস আগেও চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে নগরীর অনেক এলাকা ডুবলেও জামালখানে পানি উঠেনি। কিন্তু সোমবার ভোরের কয়েক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে জামাল খান মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটু থেকে কোমর পানি প্রবাহিত হয়েছে। জামাল খান খাল খনন শেষ না হওয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে তার ধারণা। বৃষ্টিতে সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে ডা. সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইন্সটিটিউট, আইডিয়াল স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে স্কুলে দিতে এসে দেখেন সড়কের ওপর দিয়ে বইছে পানি।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নেতা আবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজার। এখানে হাজার হাজার দোকানপাঠ রয়েছে। সকালে দোকানে এসেই ব্যবসায়ীরা দেখতে পান তাদের দোকানপাঠে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি কমার পর অনেকেই দোকান থেকে পানি সেচে বের করতে হয়েছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা ব্যাংকার মোবারক আলী যুগান্তরকে বলেন, বৃষ্টি যেন কাতালগঞ্জবাসীর জন্য অভিশাপ। কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা ডুবে যায়। সোমবারের বৃষ্টিতে সকাল থেকে আবাসিক এলাকা ও মূল সড়কের সব সড়কে কোমর সমান পানি জমে যায়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারেননি। নির্দ্দিষ্ট সময়ে অফিসে যেতে পারেননি কর্মজীবী মানুষ।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .