যে কারণে জামায়াত সমর্থিত সাত আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০ পিএম
জামায়াত সমর্থিত সাত আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকার জুলাই সনদ না মানায় বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলে থাকা কর্মকর্তারা সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বগুড়া জজকোর্টে এই আইনজীবীরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সাত আইন কর্মকর্তার পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক স্বাক্ষরে আবেদনগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
পদত্যাগ করা আইন কর্মকর্তারা হলেন- বগুড়ার অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি, অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক, এপিপি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, এপিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, এজিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, এপিপি অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ ও এপিপি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন- ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন সাইফুল, অ্যাডভোকেট দলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আল-আমিন প্রমুখ।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর পদত্যাগকারী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একইভাবে বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব জুলাই পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এসব ঘটনা সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে আমার বিবেকের তাড়নায় আমি এ পদে থেকে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারছি না বিধায় পদত্যাগ করলাম।
