Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

বাড়ির ছাদে জিনসেং চাষ করে সফলতা দেখছেন আইনুল

Icon

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

বাড়ির ছাদে জিনসেং চাষ করে সফলতা দেখছেন আইনুল

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জিনসেং পরিচিত একটি ঔষধি উদ্ভিদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি খাবার ও বিভিন্ন ভেষজ পণ্যে ব্যবহার করা হয়। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং চাষ শুরু করেছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মধ্য দৌলতপুর গ্রামের আইনুল ইসলাম।

স্নাতক পাশ করা এই যুবক একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি প্রথমে বাড়ির ছাদে জিনসেং চাষ শুরু করেন। অল্প সময়েই সাফল্য পাওয়ায় বর্তমানে ১০ কাঠা জমি চুক্তিতে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন তিনি। ওই জমিতে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার জিনসেং গাছ।

জিনসেং চাষ থেকে পাওয়া আয় দিয়েই স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বাবা-মাসহ ছয় সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন আইনুল। চাকরির পাশাপাশি এই উদ্যোগে বাড়তি আয় হওয়ায় সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে বলে জানান আইনুল।

আইনুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে করোনাকালে ইউটিউবের মাধ্যমে ঔষধি গাছ জিনসেং সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। চাষের জন্য জমি না থাকায় বাড়ির ছাদেই এটি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য ছাদে বস্তায় বেলে দোআঁশ মাটি ভরে জিনসেংয়ের চারা রোপণ করেন। ইউটিউব থেকে শেখা পদ্ধতি অনুসরণ করে এক বছরের মধ্যে ভালো ফলন পান। পরে গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ছাদের প্রায় পুরো অংশে এবং চুক্তিতে নেওয়া জমিতে বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং চাষ শুরু করেন।

আইনুলের স্ত্রী হাসিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি জিনসেং চাষ করে অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমানে জিনসেং চাষের আয় থেকে ভালোভাবেই আমাদের সংসার চলছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে লাগানো জিনসেং গাছের পরিচর্যা করছেন আইনুল। তাকে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী হাসিনা আক্তার। এ সময় আইনুল জানান, সারা বছরই জিনসেং সংগ্রহ করা যায়। একটি গাছ পরিপূর্ণ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে।

আইনুল নিজ এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করেন। ফলে চাকরির পাশাপাশি জিনসেং চাষ ও বিক্রি করতে সুবিধা হয়। জিনসেংয়ের মূল সংগ্রহের পর সেগুলো রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে বিক্রি করেন তিনি। অনলাইনের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও এই গুঁড়া বিক্রি হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম জিনসেং পাউডার ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

আইনুল জানান, ইট, বস্তা, বাঁশ ও জৈব সারসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে জিনসেং চাষ থেকে প্রতি মাসে তার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। চাকরির আয়ের সঙ্গে এই অতিরিক্ত অর্থ যোগ হওয়ায় বাবা-মাকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলছে। একসময় সংসারে টানাপোড়েন থাকলেও এখন আর্থিকভাবে বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্য ফসল বাদ দিয়ে জিনসেং চাষের কারণ জানতে চাইলে আইনুল বলেন, ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই ঔষধি গাছের নানা ব্যবহার রয়েছে। এটি চাষে তুলনামূলক কম পরিশ্রম হয় এবং বাজারে চাহিদাও আছে। ফাঁকা পড়ে থাকা ছাদে সহজেই চাষ করা যায়। অল্প শ্রমে তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় জিনসেং চাষ শুরু করেছি।

স্থানীয় কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানান, জিনসেং বিভিন্ন ভেষজ ও খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত হয়। বাজারে এর চাহিদা থাকায় তারা আইনুলের কাছ থেকে জিনসেংয়ের গুঁড়া কিনে বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে জিনসেংয়ের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আইনুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটরকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটরকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ঘুসের টাকা ফেরত পেতে ইউএনওর কাছে অভিযোগ

ঘুসের টাকা ফেরত পেতে ইউএনওর কাছে অভিযোগ

সবার পরিচিত ‘মিঠু’ খাঁচায় বন্দি, মুক্ত করতে থানায় অভিযোগ

সবার পরিচিত ‘মিঠু’ খাঁচায় বন্দি, মুক্ত করতে থানায় অভিযোগ

ঈদের রাতে বিএনপি নেতা মিন্টুর ‘সিক্স স্টার’ বাহিনীর তাণ্ডব

ঈদের রাতে বিএনপি নেতা মিন্টুর ‘সিক্স স্টার’ বাহিনীর তাণ্ডব

সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে গালি, থানায় অভিযোগ

সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে গালি, থানায় অভিযোগ

কনস্টেবলকে হত্যার হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার, স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

কনস্টেবলকে হত্যার হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার, স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম