চট্টগ্রামে বেড়াতে যাওয়া কিশোরের লাশ উদ্ধার, চার সহপাঠি গ্রেফতার
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে সহপাঠিদের সঙ্গে চারদিন আগে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫)। সেখান থেকে সবাই বাড়ি ফিরলেও শুধু ফেরেনি শান। গত শনিবার এ ঘটনার পর ছেলের সন্ধান পেতে সহপাঠিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল শান’র পরিবার। কিন্তু তখনো তারা বলেনি ওইদিন শান সমুদ্রে নেমে ভেসে গিয়েছে। উপায় না পেয়ে নগরীর হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ জানায়নি শান’র শেষ পরিণতির কথা।
সবশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারে শান’র লাশ রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে। গত শনিবার রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছিল পতেঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে শান’র চার সহপাঠিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার চার কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, নগরীর হালিশহর এ-ব্লক এলাকার চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির (বিজ্ঞান বিভাগের) ছাত্র ছিল সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তাদের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার মগধারা এলাকায়। তবে সে নগরীর হালিশহর থানাধীন চুনা ফ্যাক্টরী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো।
গত শনিবার কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর বিকেল গড়িয়ে গেলেও বাসায় ফেরেনি সে। বিকেল তিনটার পর থেকে তার মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। হালিশহর থানায় জিডি করার পর পুলিশ শান’র বিষয়ে তার সহপাঠিদের কাছে জানতে চায়। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া বন্ধুদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে শান’র পরিবার জানায়, ওই দিন শানসহ তার সহপাঠিরা সাগরের পানিতে নেমেছিল। একপর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে শান পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বন্ধুরা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেও ওপরে তুলতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা শানকে ছেড়ে দেয়। পরে সাগরে ভেসে যায় শান। এরপর তার স্কুলব্যাগটিও সাগরে ফেলে দিয়ে বন্ধুরা বাড়ি ফিরে যায়। আইনি ঝামেলা এড়াতেই তারা বিষয়টি গোপন রেখেছিল বলে জানিয়েছে।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ বলেন, শনিবার রাতে সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য তার ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়া হয়। এরপর সোমবার সন্ধ্যার পর ফেসবুক পেজে ছবি দেখে শান’র পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, ‘নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। এরপরই ওই কিশোরের চার সহপাঠিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
