কালীগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নীপিড়নের অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভিকটিম স্কুলছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছে।
লিখিত অভিযোগে স্কুলছাত্রী উল্লেখ করেছে- শাহ আলম স্যার অনেক দিন ধরে বাজেভাবে গায়ে হাত দেয়। প্রতিদিন ১০ টাকা করে দেয় খাবার খেতে। এভাবে দুই সপ্তাহ দিয়েছে। গতকাল ( সোমবার) স্যার তার হাতে লিখেছে ওয়াশরুমে যাও; কিন্তু আমি ভয় পেয়ে ওয়াশরুমে না গিয়ে স্কুল থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসছি। শুধু আমার না, আমার আরও সহপাঠীদের সঙ্গে স্যার এমন ব্যবহার করে।
এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার সকালে স্কুলে অবস্থান নেন গ্রামবাসীরা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রথমে পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষককে থানায় নিয়ে যেতে চাইলেও বাধা দেন এলাকাবাসী। পরে আবার স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এইচ এম রোকনুজ্জামান, ওসি কবির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
শিশুটির মা জানান, তার মেয়ের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে এমন যেন কারো মেয়ের সাথে না ঘটে। আমি ওই শিক্ষকের শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে আজ সকালে এ ঘটনা বলেছেন। তখন আমি প্রধান শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যেতে বলি। কারণ এটা একটা প্রেস্টিজের বিষয়। এসব কথা বলতে বলতে সকালে ১০ থেকে ১২ জন এসে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এইচএম রোকনুজ্জামান বলেন, খবর শুনে তিনি ওই স্কুলে গিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলশিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়। স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জেনেছি। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
