হিন্দু-মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব
কটিয়াদীতে সাবেক জনপ্রতিনিধির জানাজায় শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অশ্রু বিসর্জন
Advertisement
কটিয়াদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান (৯৮) নামে এক বয়োবৃদ্ধের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন সমবেদনা জানাতে মৃতে বাড়িতে হাজির হন। মরহুমের জানাজার সময় মুসুল্লিদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকেই।
মঙ্গলবার ( ১৮ আগস্ট) বাদ জোহর কটিয়াদী বাজার দরগা জামে মসজিদের ভেতরে চলছিল মৃত আব্দুর রহমানের জানাজার নামাজ। বাইরে শোকাহত দৃষ্টিতে অপলকভাবে তাকিয়ে রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন। কারও চোখ অশ্রুসিক্ত আবার কারও চেহারায় শোকের ছায়া। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সবার হৃদয়ে ছিল ভালোবাসার প্রবল টান। অন্য ধর্মের হলেও তারা সাবেক এই জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন। মানবিকতার পাশাপাশি এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশাল মসজিদের ভেতরে হাজারো মানুষ জানাজায় দাঁড়িয়েছেন। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে শোকাহত বিষন্ন মনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কটিয়াদী পৌরসভার বোয়ালিয়া তাহেরা নূর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিত কুমার সাহা, কটিয়াদী ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা, ভোগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মধুসূদন সাহা ও কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা।
কটিয়াদী পৌরসভার পূর্বপাড়া মহল্লার বাসিন্দা প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার রাতে নিজ বাড়িতে মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদে মুসলমানদের পাশাপাশি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মনেও গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে আসে।
মৃত আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন স্থানীয় দরগাহ জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। সামাজিক কাজের পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় কাজেও দীর্ঘদিন অবদান রেখে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরের নামাজের পর হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শিক্ষক ইন্দ্রজিত কুমার সাহা বলেন, ‘মরহুম আব্দুর রহমান সাহেব এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী ছিলেন। আমার প্রয়াত পিতার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদ অন্যদের মতো আমাদেরও শোকাহত করেছে। এজন্য শেষ বিদায়ের শ্রদ্ধা জানাতে আমরা উপস্থিত হয়েছি।’
শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘আব্দুর রহমান সাহেব খুবই বিনয়ী মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তার শেষ বিদায়ের সময়ে উপস্থিত হলাম। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘এলাকার প্রতিটি মৃত্যু আমাকে শোকাহত করে। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি কেউ মারা গেলে উপস্থিত হতে। ধর্ম কারও সম্পর্ক আলাদা করে না। মরহুম খুবই সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু অন্যদের মতো আমাকেও শোকাভিভূত করেছে।’
ছবি: কটিয়াদীর কলামহলা দরগাহ জামে মসজিদের ভেতরে চলছে জানাজা। একটু পেছনে মাঠে শোকাহত দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন।
