Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

পরকীয়ার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে নারীকে চেয়ারম্যানের জুতাপেটা

Icon

কুমিল্লা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

পরকীয়ার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে নারীকে চেয়ারম্যানের জুতাপেটা

পরকীয়ার অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে নারীকে চেয়ারম্যানের জুতাপেটা। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পরকীয়ার অভিযোগে এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে ফরিদ উদ্দিন নামের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে সোমবার মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের একটি সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সি এক নারীকে মাটিতে বসিয়ে জুতাপেটা করছেন মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর মাথা নিচের দিকে চেপে ধরে পেটে জুতা দিয়ে আঘাত করেন।

স্থানীয়রা জানান, চারিপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই নারী ও যুবককে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পুরুষের বিচারের কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। নারীকে জুতাপেটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শত শত লোকের সামনে এক বোনকে জুতাপেটা করা হলো, অথচ কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি। চেয়ারম্যানকে এ ধরনের বিচারের ক্ষমতা কে দিয়েছে?

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই নারী তার প্রবাসী স্বামীর সংসারে থাকা অবস্থায় পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। সামাজিক বিচারে যে রায় হয়েছে আমি সেটিই কার্যকর করেছি। কিছু লোক ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে গ্রাম্য সালিশের নামে এভাবে শাস্তি দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

কুমিল্লা আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করছেন-এটা গুরুতর অপরাধ। ওই নারী অপরাধী হয়েও থাকলে তাকে আইনের আওতায় সোপর্দ করা উচিত ছিল। এভাবে গ্রাম্য সালিশের রায় বাস্তবায়নের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .