২০ বছর পর রায়, কারাদণ্ড পেলেন ৩ জেএমবি সদস্য
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি আলোচিত মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নওগাঁ জেলার কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় র্যাব-৭-এর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে র্যাব সদস্যরা বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরির ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারিসহ বেশ কিছু উপকরণ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় র্যাব ৭ এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন একই দিন কোতয়ালী মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন র্যাবের ঢাকাস্থ সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান ও তাদের আটক করতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কুমিল্লা আদালতের পিপি এডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, এ মামলাটি বেশ আলোচিত ছিল। এ মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। রায়ে বিচারক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তান থাকা, তার স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন বলে মামলার রায়ে উল্লেখ রয়েছে। পরে কঠোর নিরাপত্তায় আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়।
